নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে তাঁরা অনুগামীরা। প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে যে ঘটনা ঘটেছে তাকে বিজেপি দল অনুমোদন দেয় কি না সেটা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে জানতে চাইলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি দলের একজন নেত্রী বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে নির্বাচিত বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, এই ঘটনা কি বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কাদেবীর ব্যক্তিগত আন্দোলন কর্মসূচি, নাকি এটা বিজেপি থেকে করানো হয়েছে? বিজেপি রাজ্য দলকে প্রকাশ্যে জানাতে হবে, এই ঘটনাকে শাসক দল অনুমোদন দেয় কি না? যদি তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছু না জানায় সাতদিন পরে বৃহত্তর আন্দোলন হবে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। এদিকে, এই ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সন্দীপন সাহা।
প্রসঙ্গত, মাত্র দুদিন আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের বিরোধী দলের তকমা দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। একইসঙ্গে সন্দীপন সাহাকে বিরোধী দলের উপদলনেতা পদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই পদ পাওয়ার পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দেখা গেল বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়ালের উপস্থিতিতে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সন্দীপন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বাবার কাছে আগের ভোটে প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়াল পরাজিত হয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেন সন্দীপনের কাছে।
সন্দীপন বলেন, তারপরেও আমি দেখলাম আমার বাড়ির সামনে গন্ডগোল করলেন উনি। তিনি যে কাজ করেছেন তা সুষ্ঠু রাজনীতির পরিচয় নয়। যে-সময় তাঁরা লোকজন নিয়ে এসেছিলেন, সেইসময় আমার মেয়ের স্কুল যাওয়ার সময়। আমার মেয়ে যদি সেইসময় বাড়ির বাইরে যেত, তাহলে অন্য ঘটনা ঘটে যেতে পারত। তাই আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আর আমি রাজ্য বিজেপির কাছে জানতে চাই, তারা এই ঘটনায় কী বলছে।
এর পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বলতে হবে তিনি প্রিয়াঙ্কাদেবীর আন্দোলনকে সমর্থন করছেন নাকি দল তাঁর পাশে নেই। যদি দল প্রিয়াঙ্কাদেবীর পাশে না-থাকে তাহলে ওই নেত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, আমরা সাতদিন অপেক্ষা করব। তারপরই বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।
বস্তুত, এই ঘটনায় বিজেপির কোনো দুই গোষ্ঠীর বিভাজন রয়েছে কি না সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ইদানীং দেখা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন ঋতব্রত, সন্দীপন। তারপরেই তাঁদের প্রধান বিরোধী দলের তকমা দেওয়া হয়। এখন বিজেপি নেত্রীর উপস্থিতিতে সন্দীপনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতির কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হল।
অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ গোষ্ঠী তৈরি হওয়ার পরেই ফাটল ধরতে শুরু করেছে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত। শুক্রবার সন্দীপনের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরের বেশ কয়েকজন। ঋতব্রত দাবি করেন, আমাদের সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। দিন যত এগোবে, সংখ্যাটা তত বাড়বে। যখন বিধানসভা অধিবেশন শুরু হবে, তখন সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে পৌঁছায় দেখবেন! তাঁর দাবি, এই জল অনেক দূর গড়াবে।



