সংবাদদাতা, তারকেশ্বর ও উলুবেড়িয়া : ঘূর্ণিঝড় মন-থার প্রভাবে ঝড়বৃষ্টিতে ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন চাষিরা। অধিকাংশ জায়গায় মাঠেই শুয়ে পড়েছে ধানগাছ। এদিকে, রয়েছে শোষক পোকার সংক্রমণের আশংকা। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। বুধ পেরিয়ে বৃহস্পতিবারেও দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে হুগলির বিভিন্ন প্রান্তে। তারকেশ্বর, ধনেখালি, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া সহ হুগলির বিস্তীর্ণ অংশের মাঠ এই সময় সোনালি ফসলে উজ্জ্বল হওয়ার কথা। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝাপটায় একরের পর একর জমির ধান গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কিছু জায়গায় অবশ্য চাষিরা ঝড়-বৃষ্টির আশংকা করে ধান তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে ৯৫ শতাংশ জমির ধান এখনও মাঠে। আর মাত্র ২০-২৫ দিন বাদেই ধান কাটার পরিকল্পনা ছিল চাষিদের। তার আগেই বৃষ্টিতে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।
হুগলি জেলায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। তারকেশ্বরের চাষি অষ্ট সামন্ত বলেন, এবার আলু চাষ করে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ১৭০ টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে। তার উপর ঝড়বৃষ্টিতে ধান গাছের বড়ো অংশই মাটিতে শুয়ে পড়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি ২০-২২ মন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা, অসময়ের বৃষ্টিতে তা অনেকটাই কমে যাবে। এরমধ্যে শোষক পোকার আক্রমণ করলে ওই ধান আর পাওয়া যাবে না। তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় বলেন, মন-থার প্রভাবে ধান গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার উপর শোষক পোকা ধানের শিসে আক্রমণ করলে যেটুকু ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাও মিলবে না। কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজর রাখা হচ্ছে। শোষক পোকার আক্রমণ আটকাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ধান গাছের ক্ষতির আশংকা করছেন হাওড়ার চাষিরা। কোথাও গাছের গোড়ায় জল জমেছে। কোথাও ধানের গাছ শুয়ে পড়েছে। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া, আমতা, বাগনান, শ্যামপুর, উদয়নারায়ণপুরে ধান চাষ হয়। অনেক জায়গায় ধান পাকা শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় ফের ধান গাছ সোজা হলেও ফলন কতটা ভালো হবে সংশয়ে চাষিরা। উদয়নারায়ণপুরের মৃতুঞ্জয় সামন্ত, রবীন বাগ, অনিল মাইতি, অসিত প্রামাণিকদের বক্তব্য, জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। জানি না ঠিকঠাক ফলন পাওয়া যাবে কি না। জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, সামান্য ক্ষতি হয়েছে। যদিও ধানের তেমন ক্ষতির আংশকা নেই বলে মনে করছেন উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা। নিজস্ব চিত্র