ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার রেভিনিউ ইন্সপেক্টর
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চার হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হল পূর্ব বর্ধমানের এক রেভিনিউ ইন্সপেক্টর। আউশগ্রামের বিএলএলআরও দপ্তরের ওই রেভিনিউ অফিসারকে অ্যান্টি করাপশন দপ্তরের অধিকারিকরা হাতেনাতে পাকড়াও করেন। কয়েক দিন আগেই ওই অধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অ্যান্টি করাপশন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে খবর পৌঁছাতেই বুধবার বিকালে তাঁকে জালে তোলা হয়। এক ব্যক্তি তাকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আধিকারিকরা অফিসে পৌঁছে যান। টাকার মধ্যে বিশেষ রাসায়নিক মেশানো ছিল। চার হাজার টাকা নেওয়ার পরেই ওই অধিকারিকের হাত জলের মধ্যে রাখতেই রং বদলে যায়। 

Advertisement

অ্যান্টি করাপশন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সরকারি অফিসের কেউ ঘুষ চাইলে যে কেউ দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারে। ওয়েবসাইটের নম্বর দেওয়া রয়েছে। সেখানে ফোন করলেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের ওই আধিকারিক গ্রেপ্তার হতেই জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। জেলার বাসিন্দাদের দাবি, বিএলএলআরও অফিসগুলি ঘুঘুর বাসায় পরিণত হয়েছিল। টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।  টাকার বিনিময়ে অনেক অবৈধ কাজও হয়েছে। জমির রেকর্ড বদলে দিতেও তারা পিছুপা হয়নি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ঘুষ নিলে কেউ ছাড় পাবে না। তৃণমূল জমানায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনেক আধিকারিক ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন। কয়েকজন বিএলএলআরও একই জায়গায় দীর্ঘদিন পোস্টিং ছিলেন। তাঁদের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার। তাঁদের মদতে বহু পুকুর ভরাট হয়ে গিয়েছে। তার জন্য রেকর্ড অন্য জনের নামে করে দেওয়া হয়েছে। বিএলএলআরও অফিসে যারা দীর্ঘদিন ধরে পোস্টিং রয়েছে, তাদের বদলি করা দরকার। 
 জেলার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এক সময় পূর্ব বর্ধমানে অবৈধ বালি ঘাটের রমরমা ছিল। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কিছু আধিকারিকের মদতেই মাফিয়াদের রমরমা বাড়ে। সরকারের বিপুল টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়। কিন্তু, এক শ্রেণির আধিকারিক  ও মাফিয়ারা ফুলেফেঁপে ওঠে।  অ্যান্টি করাপশন দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের বিএলএলআরও অফিসের ওই আধিকারিক এর আগেও একাধিকজনের কাছে থেকে টাকা নিয়ে কাজ করেছেন। এদিন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হতে পারে বলে তিনি একবারের জন্যও টের পাননি। অ্যান্টি করাপশন দপ্তরের আধিকারিকদের দেখে তিনি চমকে ওঠেন। টাকা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধিকারিকরা তাঁর দুই হাত চেপে ধরেন। পরে হাত জলে ডোবাতেই  পর্দা ফাঁস হয়ে যায়।