Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রং না দেখে সব ঘরছাড়াকে ফেরান, নির্দেশ হাইকোর্টের

কোনো রাজনৈতিক দলের রং না দেখে ঘরছাড়াদের ফেরাতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনি যুদ্ধে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

রং না দেখে সব ঘরছাড়াকে ফেরান, নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কোনো রাজনৈতিক দলের রং না দেখে ঘরছাড়াদের ফেরাতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন ছাব্বিশের নির্বাচনি যুদ্ধে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলাতেই সওয়াল করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই আইনজীবীদের শামলা পোশাক পরে হাইকোর্টে উপস্থিত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সওয়াল-জবাব শেষে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়ি বা দোকান থেকে তাড়ানো হলে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। পাঁচ সপ্তাহ পরে ওই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই সময়ের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের মন্তব্য, ‘এই মামলাটি পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে যাবে কি না, তা হলফনামা দেখে আদালত ঠিক করবে।’

Advertisement

তবে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে আসার কথা জানাজানি হওয়ার পরই ঠাসাঠাসি ভিড় জমতে থাকে প্রধান বিচারপতির এজলাসে। সেখানে সওয়াল করতে গিয়ে প্রথমেই প্রধান বিচারপতির কাছে অনুমতি চেয়ে মমতা বলেন, ‘আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী। এবং সেই হিসাবেই আমি সওয়াল করতে চাই।’ এরপরই একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আরও বলেন, ‘এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।’ তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘৯২ বছরের বৃদ্ধকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তফসিলি জাতি, সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ এরপরই ভোট-হিংসা সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, নিউ মার্কেট এলাকায় হকারদের দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদের আগের অবস্থায় ফেরানো হোক। 
যদিও এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী পালটা সওয়ালে বলেন, ওইসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। নির্দিষ্ট করে তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে না কোথায়, কী ঘটেছে। রাজ্যের পুলিশ সতর্ক এবং সক্রিয় রয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ২ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু কে, কখন অভিযোগ করেন বিস্তারিত কিছুই বলা হচ্ছে না।’
শুনানি শেষে আদালত কক্ষ ত্যাগ করার পরই বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁকে ঘিরে আইনজীবীদের একাংশ স্লোগান দিতে থাকে। ভিড় এড়িয়ে তাঁকে বের করে নিয়ে আসেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। শেষে গাড়িতে উঠে রওনা দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ধরনের কাজ বিজেপি সমর্থন করে না। এই পরিস্থিতি বিজেপি তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়ে থাকে, তার জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস।’ আর এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া রাজ্যের বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে ‘আইনজীবী’ মমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে পাঠায়। বিসিআই জানতে চেয়েছে, কবে আইনজীবী হিসাবে মমতার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, পেশা স্থগিত এবং পুনরায় শুরু তথা মমতার আইনি পেশার শংসাপত্র দেখতে চেয়েছে তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ