


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: টিটাগড় বাঁশবাগানের বহুতলের পাঁচতলার বন্ধ ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনার ২৪ ঘন্টার পরেও সেখানকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। পরিবেশ থমথমে হয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত ওই বহুতল আবাসনের বাসিন্দারা। ২৪ ঘন্টা পুলিসি পাহারা থাকলেও, আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘুমোতে পারছেন না। পাঁচ তলার যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, তার পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন সঙ্গীতা দেবী। মঙ্গলবার সকালে তিনি বললেন, আতঙ্কে ঘুমোতে পারিনি। যে বিকট শব্দে সোমবার সকালে ঘুম ভেঙেছিল, সে আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।। আমার ছেলে অংশু এখনও মাঝেমধ্যেই কেঁপে কেঁপে উঠছে।
তবে ওই আবাসনের জলের সমস্যা মিটে গিয়েছে। বিস্ফোরণের জন্য ফেটে যাওয়া পাইপ সারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকলের ঘরে জল পৌঁছেছে। এদিন সকালে গিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণের জন্য পাশের বস্তির ভাঙা টালির চাল মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে বাঁশ কেটে টালির চাল দেওয়া হচ্ছে। বাসিন্দারাই জানালেন, আমরাই নিজেদের ঘর মেরামত করে নিচ্ছি।
তবে কাউন্সিলার আরমান মন্ডল সম্পর্কে এলাকার মানুষের বক্তব্য, তার জেলে যাওয়া নতুন কিছু নয়। এর আগে বেশ কয়েকবার গিয়েছিল। কাউন্সিলার হয়ে এই প্রথম তিনি জেলে গেলেন। কাউন্সিলার হয়ে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার কাজ তিনি ভালই করছিলেন। সকালবেলা উঠে রাস্তা পরিষ্কার, নর্দমা পরিষ্কার প্রভৃতি কাজ মনিটর করতেন। সেই কাজের ছবি আবার রাজ চক্রবর্তীকে অন্য কাউন্সিলারদের মতো রোজ তিনি পাঠিয়ে দিতেন।
টিটাগড়ের ‘অন্ধকার জগতে’ বেশ কিছু অপারেশন অত্যন্ত ‘সুনাম’এর সঙ্গে সেরেছিলেন কাউন্সিলার আরমান মণ্ডল। পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার অশোক পাণ্ডের বাড়িতে দাবাং যুবনেতা মণীশ শুক্লার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন মণীশ। সেই সময় আনন্দ শর্মা নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পিছনে আরমান মন্ডলের হাতে ছিল বলে এলাকাবাসীরাই অভিযোগ করেছেন। পরবর্তীকালে জেল থেকে বেরিয়ে আবার মণীশ শুক্লার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন আরমান। খুবই সাহসী এবং অল্পে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে পারদর্শী আরমান মন্ডল। বর্তমানে মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে তাঁর বনিবনা নেই বলেই টিটাগড়ের অন্ধকার জগতের খবর। আর সেই কারণেই নিজের নিরাপত্তার জন্য এই বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান। তা বিস্ফোরণ হওয়াতেই এই বিপত্তি।