


নয়াদিল্লি: জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জিনিসপত্রের দামও ঊর্ধ্বমুখী। টাকার দরও তলানিতে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে আনতে রেপো রেট বাড়ানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। যে হারে বাণিজ্যিক বাংকগুলি রিজার্ভ ব্যাংককে সুদ দেয় তাই রেপো রেট। এই রেট বাড়ার অর্থ বাজারে নগদের সরবরাহ কমবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতিতেও লাগাম টানা সম্ভব হবে। তবে এর মূল্য চোকাতে হবে লোন নিয়ে বাড়ি-গাড়ি কেনা গ্রাহকদের। কারণ রেপো রেট বাড়লে ঋণে সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি। তখন ইএমআইয়ের পরিমাণও বাড়বে।
সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে রেপো রেট বাড়ানো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। আগামী ৩ থেকে ৫ জুন বৈঠকে বসছে সঞ্জয়ের নেতৃত্বাধীন মনিটারি পলিসি কমিটি (এমপিসি)। সেখানেই রেপো রেট বাড়ানো নিয়ে সবুজ সংকেত দিতে পারেন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর। গত তিনটি বৈঠকে রেপো রেটে হাত দেওয়া হয়নি। রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট, শুধু মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরাতেই নয়, ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যমানে স্থিতাবস্থা আনতেও রেপো রেট বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। এতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তবে সবচেয়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে পড়তি টাকার দাম। এই অবস্থায় সুদের হার বাড়ানোর পাশাপাশি অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে ডিপোজিট স্কিমের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ এবং সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিকে বৃহস্পতিবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাকার দর। মার্কিন ডলারের নিরিখে ৫০ পয়সা দাম বেড়েছে টাকার। লেনদেনের শেষে ডলারের তুলনায় টাকার দাম ছিল ৯৬.৩৬ টাকা। শেয়ার বাজারের সূচক এদিন সামান্য নেমেছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্সের ১৩৫ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ পড়ে ৭৫ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে স্থির হয়। জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ৪ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.০১৮ শতাংশ নেমে ২৩ হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে পৌঁছায়।