নয়াদিল্লি: হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় বড়ো স্বস্তি রাহুল গান্ধীর। সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এই মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টকে আর না এগতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের প্রশ্নবান থেকে রেহাই পায়নি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিও। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের তোপ, বিষয়টি যদি এতই গুরুতর হয়, তাহলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি চুপ করে থাকল কেন? সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের জারি করা নির্দেশ মেনে সিবিআই ও ইডি যেন কোনো তদন্ত রিপোর্ট পেশ না করে।
হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন পেশ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। এই মামলায় আগামী ২০ আগস্ট হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা ছিল। যদিও এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনাকে নিয়ে গড়া সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, শীর্ষ আদালতে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট তাদের শুনানির প্রক্রিয়া স্থগিত রাখবে।
রাহুল গান্ধীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল হাইকোর্টে আবেদনকারী ভিগ্নেশ শিশিরের আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিবাল বলেন, ‘এটি আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি বেছে বেছে হয়রানির প্রক্রিয়া, যা আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। এই একই আবেদনকারীর পক্ষ থেকে বারবার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, অভিযোগ যাচাই করা ছাড়া সিবিআই আর কিছুই করেনি।’ অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থাগুলির তরফে উপস্থিত হয়েছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এস ভি রাজু। তিনি বলেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলির কোনো ভূমিকা নেই। তবে অভিযোগে যদি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি প্রকাশ পায়, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর। যদিও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এজেন্সিগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক নীতিগুলি মেনে চলা হয়েছিল কি না, শুধুমাত্র সেবিষয়েই আদালত উদ্বিগ্ন। কোর্ট কোনো নির্দেশ জারি করতে চাইলে তা ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক নীতিগুলি মেনে হবে, সেটাই প্রত্যাশিত।
এদিনের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে আবেদনকারী ভিগ্নেশ শিবির বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটি এফআইআর-পূর্ববর্তী স্তরে রয়েছে। ফলে এই স্তরে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই। যদিও সরকারি আইনজীবীকে বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি এতই গুরুতর হলে এজেন্সিগুলি কেন চুপ রইল? এজন্য কি আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হয়? আপনারা কি কোনো স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছেন?