আধুনিক শহুরে জীবনে প্রাসঙ্গিক, বাঘাযতীনের দু’টি মণ্ডপে আদিবাসী, রাঢ়   বঙ্গের সংস্কৃতি
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘সুখা মাটি ভুখা পাটে ঝুমরি গাহি মনের সুখে/বাবু এটুং ওটুং যাসরে কেনে, মাদল বাজে, ধামসা বাজে’। পুরুলিয়া, বাঁকুড়াসহ রা‌ঢ় বাংলা আর ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর মালভূমি ঘিরে ছোটো ছোটো জনবসতির উৎসবে এই ধরনের ঝুমুর গান আজও শোনা যায়। প্রাচীন গ্রাম বাংলার এই সংস্কৃতিই যুগ যুগ ধরে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের জীবনচর্যাকে ব্যক্ত করে আসছে। কখনো এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে খেটে-খাওয়া মানুষের যন্ত্রণা তো কখনো এর বোল তুলে ধরছে ধনীদের বৈভবের সুখস্মৃতি। এবার সেই পল্লিসমাজের নানা ঐতিহ্যকেই তুলে ধরতে চলেছে বাঘাযতীনের দুই পুজোমণ্ডপ। 

Advertisement

বাঘাযতীনের মোড়ে দাঁড়ালে রাস্তার ডান পাশে বি অ্যান্ড সি কলোনির পুজো। আর বাঁ পাশে চলে যাচ্ছে বারো ভূতের মাঠ সংলগ্ন ২ নম্বর শ্রীকলোনি পুজোমণ্ডপে যাওয়ার রাস্তা। এবছর দুই ক্লাবেরই থিম পুজো। আর দুটিরই থিম গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি।  
২ নম্বর শ্রীকলোনির থিম ‘রাঙা মাটির টানে’। মূলত বাংলার আদিবাসী সমাজের প্রাচীন ঐতিহ্যকে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরছে। শিল্পী সুরজিৎ রায়চৌধুরী জানালেন, আদিবাসী সমাজ প্রাচীন সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বছরের পর বছর ধরে তাদের নাচ, গান ও সংস্কৃতির নানা আঙ্গিক আজও আমাদের সমৃদ্ধ করে চলেছে। অবশ্য তথাকথিত আধুনিকতার চোরাবালিতে এই লোকশিল্পীদের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। তাই এই শারদোৎসবে সেইসব শিল্পী ও তাঁদের শিল্পকলাকেই মানুষের সামনে উপস্থাপিত করবে তাদের পুজোমণ্ডপ। প্যান্ডেলে প্রবেশের মুখে ধামসা-মাদলের গভীর তালেই আহ্বান জানানো হবে দর্শনার্থীদের। ভিতরে মণ্ডপজুড়ে থাকবে ঝুমুর নাচের ছন্দ ও আদিবাসী শিল্পীদের তৈরি পটচিত্র। মণ্ডপসজ্জার জন্য পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। সুরজিৎবাবু এও জানালেন, রঙের ব্যবহার বেশি হলেও তাতে থাকবে মাটির গন্ধ ও সবুজের প্রাধান্য। শিল্পী মোহনবাঁশি রুদ্রপালের হাত ধরে প্রতিমা হবে সাবেকি। আলোসজ্জায় রয়েছে মিঠুন ইলেক্ট্রনিক। 
অন্যদিকে বাঘাযতীন বি অ্যান্ড সি ব্লক দুর্গোৎসব কমিটির পুজোতেও এবছর বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতির ছোঁয়া। কমিটির সদস্য সোমদেব দত্ত জানালেন, রাঢ় বাংলার ভাদু-টুসু উৎসবকেই মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পী গিরিশ ঘোষ। পুজো কমিটির সদস্য পূর্বাহ্ণ রায় জানান, সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়া চাঁদা ও এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগেই প্রতিবছর পুজোর আয়োজন চলছে। সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সুব্রত কুণ্ডু।