নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ থেকে রেফারে ‘ইতি’ টানার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, সেই নির্দেশিকার উলটো ছবি ধরা পড়ছে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই একাধিক রোগীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যার পর সেই প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে দাবি তাঁদের। তাঁরা চাইছেন, রেফার বন্ধ হোক।
উত্তর ২৪ পরগনার বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হল বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বনগাঁ, হাবড়া, অশোকনগর, মধ্যমগ্রাম, দত্তপুকুর, বসিরহাট সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে হাজার হাজার রোগী আসেন। ভরতি থাকেন কয়েকশো রোগী। জেলার মানুষের কাছে এই হাসপাতাল কার্যত শেষ ভরসার জায়গা। পরিজনদের অভিযোগ, সারাদিনে গড়ে অন্তত ১০ জন রোগীকে বিভিন্ন কারণে কলকাতার সরকারি হাসপাতাল বা অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিশুবিভাগ, মেডিসিন, সার্জারি কিংবা অন্যান্য বিভাগ— সব ক্ষেত্রেই রেফারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাঁদের। অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও পরিবারকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভরতি হওয়া এক শিশুর পরিবারের সদস্য স্বপন বিশ্বাস বলেন, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছেলেকে ভরতি করেছিলাম। ভেবেছিলাম, মেডিকেল কলেজে সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। কিন্তু, রাতে জানানো হয় অন্যত্র নিয়ে যেতে হবে। অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে তখন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে। আর এক রোগীর ছেলে ইরফান আলি বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। হঠাৎ বলা হল, এখানে চিকিৎসা সম্ভব নয়। রেফার করে দেওয়া হল। অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে কলকাতায় নিয়ে যেতে হয়েছে। রোগীকে স্থানান্তর করা বড়ো ঝুঁকির কাজ। এনিয়ে বারাসত মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি ডাঃ অভিজিৎ সাহা বলেন, কোনো রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হলে তবেই রেফার করা হয়। আর বেড না থাকলে কিছু করার থাকে না। স্বাস্থ্যদপ্তরের গাইডলাইন মেনেই রেফার করা হয়।-নিজস্ব চিত্র