নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম আমলে নিয়োগে কিছু অনিয়ম হয়েছিল। তার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল কিছু জটিলতাও। সেই কারণে আটকে গিয়েছে বেতন বৃদ্ধি। সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অস্থায়ী শিক্ষক ও প্রশিক্ষকরা এজন্য বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। তাঁরা সংখ্যায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার এবং চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত। সোমবার অনুষ্ঠিত হয় রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক। শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অস্থায়ী পদের একাধিক শ্রেণির শিক্ষকদের বেতন মাসে ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেখানে। কিন্তু এই তালিকায় বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওই শিক্ষকদের উল্লেখ নেই। যদিও শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের সংগঠনের তরফে তাঁদের বেতন বৃদ্ধির দাবিটি দীর্ঘদিনের। নতুন সরকারের কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁদের আলোচনা হয়েছে। এই শিক্ষকদের অনেকেই স্নাতক, এমনকি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। অনেকবছর ধরে পূর্ণ সময়ের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাঁদের বেতন খুবই কম। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ক্লাস নিলেও অনেকের বেতন জোটে মাত্রই ৯-১০ হাজার টাকা!
বৃত্তিমূলক শিক্ষক-প্রশিক্ষক ও কর্মচারী সমন্বয় সমিতির বক্তব্য, বেশিরভাগ নিয়োগই হয়েছিল বাম জমানায়, ২০০৫-০৬ সালে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু গোলমাল ছিল। এজন্য তাঁদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা তাঁদের বলেছেন, বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ব্যাপারটা আগে সিস্টেমের মধ্যে আনা হবে। এজন্য কিছুটা ঝাড়াই বাছাই করতে হচ্ছে। বেতন বৃদ্ধি হবে তারপর। তাই কিছুটা সময় লাগছে। জুন মাসের রাজ্য বাজেটে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষকদের বেতন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা করা হয়েছে। অঙ্কটি আগে ছিল ৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা।
সরকারি বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৭০০। একাদশ-দ্বাদশ বিভাগের পাশাপাশি রয়েছে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের জন্য ৬ মাসের কিছু টেকনিক্যাল কোর্স। দ্বিতীয় ক্ষেত্রের জন্য প্রশিক্ষকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সার্টিফিকেট। এই ধরনের প্রশিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। তাঁদের মধ্যে অনেকের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। সরকারি পোর্টালেও তা দেখানো আছে। তাই বাম জমানায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই জটিলতার জন্যই আটকে গিয়েছে সকলেরই বেতন বৃদ্ধি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রণবকুমার ঘোষ জানান, তাঁরা চান এই ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।