যাত্রার জয়যাত্রা চলে আসতে বহুকাল ধরেই। এই যাত্রা দেখতে ভালবাসতেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও। কবিগুরু নিজেই বলেছিলেন—‘যাত্রার অভিনয় দর্শক ও অভিনেতাদের মধ্যে একটা গুরুতর ব্যবধান নাই। কাব্যরস, যেটা আসল জিনিস, সেটাই অভিনয়ের সাহায্যে ফোয়ারার মতো চারদিকে দর্শকদের পুলকিত চিত্তের উপর ছড়াইয়া পড়ে।’ অবশ্য সেই আমলে আমাদের দেশে যে থিয়েটারের প্রচলন ছিল, তা মূলত ইংরেজদের মঞ্চরীতি প্রভাব-দুষ্ট। দৃশ্যপট প্রভৃতিতে ভরা। রবীন্দ্রনাথ এই রীতিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাবুকে চিত্তের মধ্যে রঙ্গমঞ্চ আছে। সে রঙ্গমঞ্চে স্থানাভাব নাই। সেখানে জাদুকরের হাতে দৃশ্যপট আপনি রচিত হইতে থাকে। সেই মঞ্চ, সেই পটই নাট্যকারের লক্ষ্যস্থল। কোন কৃত্রিম মঞ্চ ও কৃত্রিম পট কবি কল্পনার উপযুক্ত হইতে পারে না।’ রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘ছেলেবেলা’ গ্রন্থে এক জায়গায় অতীত যাত্রার ছবি এঁকেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সেকালে যাত্রা গান ছিল শুকনো গাঙে কোশ দু’কোশ অন্তর বালি খুঁড়ে জল তোলা। ঘণ্টাকয়েক তার মেয়াদ। পথের লোক হঠাৎ এসে পড়ে, আজলা করে তেষ্টা নেয় মিটিয়ে।’ সেখানে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের সময়কার কিছু ঘরে ছিল সখের যাত্রার চলন। মিহি গলাওয়ালা ছেলেদের বাছাই করে নিয়ে দল বাঁধার ধূম ছিল। আমার মেজকাকা ছিলেন এই রকম শখের দলের দলপতি। পালা রচনার শক্তি ছিল তাঁর। ছেলেদের তৈরি করে তোলবার উৎসাহ।’ কবিগুরু যাত্রাকে ভালো বেসেছিলেন। তাঁর মেজকাকা গিরীন্দ্রনাথও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যাত্রাগানের দল তৈরি করে ছিলেন। ‘জীবনস্মৃতি’তে উল্লেখ রয়েছে—‘জ্যোতিরিন্দ্রনাথের যাত্রা শুনবার জন্য চোখে ঘুম আসিত না।



