আরাধ্য দেবতা গণেশ নন। কিন্তু মন্দিরে পা রাখলেই চোখে পড়বে হাজার হাজার ইঁদুর। প্রসাদের থালায়, মন্দিরের দরজায়, চাতালে, কুয়োর পাশে সর্বত্র অবাধ বিচরণ ইঁদুরের। আকার দেখলেই বোঝা যায়, এখানে বেশ যত্নেই থাকে ইঁদুররা। মন্দিরে ঢুকলেই অবশ্য সেই আঁচ মেলে। সাধারণত ইঁদুর দেখলে অনেকেই আঁতকে ওঠেন। কেউ কেউ স্বাস্থ্য সচেতনতার দোহাই দিয়ে খাবার ঘরে ইঁদুর তাড়ানোয় ব্যস্ত হন। মেরে ফেলতেও আপত্তি নেই অনেকের। ইঁদুর ধরার হরেক রকম যন্ত্র বাজারেও মেলে। কিন্তু এই মন্দিরে সেসব কিছুই দেখা যায় না। যেন প্রত্যেকটা ইঁদুরই পোষ্য। কেউ তাঁদের তাড়াচ্ছে না, ভয়ও পাচ্ছে না। ইঁদুর যে থালায় ঘুরছে, সেই থালাতেই কেউ কেউ দিব্যি খাবার খাচ্ছেন। শরীর খারাপের প্রশ্ন করলে হেসেই তা উড়িয়ে দিচ্ছেন। কারণ, বছরের পর বছর ধরে এমনটাই সেখানকার ‘স্বাভাবিক প্রথা’। বলা হচ্ছে, করনি মাতা মন্দিরের কথা। রাজস্থানের বিকানের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের এই মন্দির শুধু সে রাজ্যের নয়, দেশেরও অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্র। মন্দিরের মূল আকর্ষণ অবশ্যই ইঁদুরের দল। বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা এখানে আসেন ইঁদুরকে খাওয়াতে। কেউ কেউ আবার ইঁদুরদের পুজোও করেন। এই করনি মাতা পুরাণের কোনও দেবী নন। ১৪-১৫ শতকের এক সাধ্বী। যিনি রাজস্থানের রাজপরিবারের পূজনীয় হয়ে উঠেছিলেন। এই মন্দির তাঁর স্মৃতিতেই তৈরি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দিরে থাকা ইঁদুরের দল আসলে করনি মাতার অংশ। তাই এখানে দেবীর বিগ্রহের থেকেও জীবন্ত ইঁদুরের কদর বেশি। ভক্তদের দেওয়া খাবার যদি কোনও ইঁদুর খায়, তাহলে তা অত্যন্ত পুণ্যের। প্রতি বছর নবরাত্রির সময় এখানে উৎসব হয়। ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মন্দিরে পুজো দিতে। তবে সাধারণত দেশের অন্যান্য মন্দিরে যেভাবে পুজো দেওয়া হয়, এখানে সেই নিয়ম চলে না। বরং ভক্তিভরে মন্দিরে থাকা ইঁদুরের পরিচর্যা করাই এখানে প্রধান কাজ।



