শরীরজুড়ে খোদাই রামনাম, ছত্তিশগড়ের ‘রামনামী’ সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে মণ্ডপ
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: রাম সাধনার জন্য মন্দিরে প্রবেশাধিকার ছিল না। কিন্তু মানুষের দেহই তো জীবন্ত মন্দির। তাই শরীরজুড়ে খোদাই করেছিলেন রাম নাম। সেই থেকেই ছত্তিশগড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় শুরু হয় রামনামী সম্প্রদায়ের পথচলা। দেড় শতাব্দী ধরে সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে। পায়ের পাতা থেকে মাথা, এমনকী জিভের উপরেও উল্কিতে লেখা অসংখ্য রাম নাম। ছত্তিশগড়ের ওই রামনামীদের আস্ত জীবন নিয়েই সেজে উঠেছে মণ্ডপ। পুজোর দিনগুলি মণ্ডপে হাজির থাকবেন ওই সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। দর্শনার্থীদের জন্য তা বাড়তি পাওনা। এবারের পুজোয় এমন মণ্ডপ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কেষ্টপুর প্রফুল্লকানন (পশ্চিম) অধিবাসীবৃন্দ।

Advertisement

পুজোর সম্পাদক রঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, এবার আমাদের প্রাক রজত জয়ন্তীবর্ষ। এবারের থিমও সম্পূর্ণ অন্যরকম। থিমের নামকরণ করা হয়েছে, ‘যাহাতে মন রমি’। রামনামী সম্প্রদায়ের উপরই এই থিম। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের জীবনযাত্রার উপর গবেষণা করেই এই মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে গিয়েছেন ওই সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। পুজোর দিনগুলিতে তাঁরা তাঁদের অনুষ্ঠানও করবেন। যা দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি পাওনা।
উদ্যোক্তাদের কথায়, কঠিন রোগ নিরাময়ের জন্য ১৮৭০ সালে পরশুরাম ভরদ্বাজ নামে এক কৃষি মজুর রাম সাধনার পরামর্শ পান। এক সাধু তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু অস্পৃশ্য হওয়ার কারণে তিনি মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেননি। নিজের গোটা দেহে রামের নাম লিখে এবং মুখে রামের ভজন করেই বেছে নিয়েছিলেন সাধনার পথ। সেই থেকেই গড়ে ওঠে রামনামী সম্প্রদায়। সমগ্র পরিকল্পনা, বিন্যাস ও প্রতিমা নির্মাণে রয়েছেন কৃশানু পাল ও সম্প্রদায়। সোমবার সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। প্রফুল্লকানন এখন মানুষের কাছে এক অন্য স্বাদের মণ্ডপ।
অন্যদিকে প্রফুল্লকাননের সুকান্ত পার্ক দুর্গোৎসব কমিটি এবার মহানায়কের জন্মশতবর্ষে নিবেদন করছে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। ওই ভাবনাতেই সেজে উঠেছে মণ্ডপ। পুজোর সদস্য সুমিত সাঁতরা বলেন, একশো বছর অতিক্রম করার পরও বাঙালির হৃদয়ে তাঁর আসন চিরস্থায়ী। সময় বদলেছে, সিনেমার ধরন বদলেছে। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই মোহময় উপস্থিতি আজও অক্ষুণ্ণ। শতবর্ষে দাঁড়িয়েও তিনি বাঙালির একমাত্র ‘মহানায়ক’। আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরকাল থাকবে তাঁরই পায়ে। টিকিট কাউন্টার পেরিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন শ্যুটিং ফ্লোরে। দেখতে পাবেন মেকআপ রুমও। এক অন্যভূতি জোগাবে দর্শনার্থীদের।  নিজস্ব চিত্র