Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

হরিপালের রাজরাজেশ্বর মন্দির

হরিপালের রাজরাজেশ্বর মন্দির
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বর্ধমান রাজার আমন্ত্রণে সুদূর রাজস্থান থেকে এসেছিলেন বীর যোদ্ধা মথুরা সিং। হরিপালের দ্বারহাট্টায় আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর পুত্র জয় সিং। পোড়ামাটির সেই আটচালা রাজরাজেশ্বর মন্দির দর্শন করতে দূর-দূরান্ত থেকে আজও বহু মানুষের সমাগম হয়। ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে তৈরি এই নারায়ণ মন্দিরে রয়েছে পূর্বমুখী তিন খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার। মন্দিরের দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট ও প্রস্থ ২১ ফুট। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে পোড়ামাটির ফলকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রাম-রাবণের যুদ্ধ, কৃষ্ণের নৌকা বিলাস, দুর্গা, মহাবীর ,লক্ষ্মী, সরস্বতী, অর্জুন, পর্তুগিজ সৈন্যদের চিত্র। ১৯৮৪ সালে এই পুরাকীর্তি ও পুরাবস্তু সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেয়। যদিও ঐতিহাসিক এই স্থান আজও অনেকের কাছেই অজানা। মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন আটজন সেবায়েত। তাঁদের অন্যতম অনুপ সিংহ রায় জানান, সেই সময় রাজস্থানের যোদ্ধাদের তাঁদের বীরত্বের জন্য আনা হতো। আমাদের পূর্বপুরুষ মথুরা সিং রাজস্থান থেকে এসেছিলেন। বর্ধমানের মহারাজ এই এলাকার জমিদারির ভার দিয়েছিলেন তাঁকে। মথুরা সিংয়ের পুত্র জয় সিং ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তিনিই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।‌ বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পীদের নিয়ে আসা হয়েছিল মন্দির তৈরি করার জন্য। মন্দিরের সামনে তিনটি শিব মন্দির তৈরি করা হয়। বর্তমানে আটটি পরিবার এই মন্দিরের দেখভালের দায়িত্ব রয়েছেন। রাজ্য সরকার দায়িত্বভার নেওয়ার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত দু’বার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে। সিং পদবি থেকে সিংহ এবং পরবর্তী সময় মহারাজের দেওয়া রায় পদবি যোগ হয়ে বর্তমানে আমরা সিংহরায় নামে পরিচিত। জন্মাষ্টমী, দোল, রাস উৎসব হয় এখানে। প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় রাজরাজেশ্বরের পছন্দের দুধের তৈরি জিনিস যেমন সন্দেশ, পায়েস, ক্ষীর। এছাড়া জন্মাষ্টমীতে তালের তৈরি নানান খাদ্যসামগ্রী থাকে প্রসাদের তালিকায়। মন্দিরের ভিতরে কোন বিগ্রহ নেই। নারায়ণ শিলা পুজো হয়।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ