Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি বিহার, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে

বর্ষার শেষমাস সেপ্টেম্বরে পৌঁছেও মোট বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে এখনও এক নম্বরেই রয়েছে বাঁকুড়া জেলা (১৪৪২.৫ মিমি)। এটা ওই জেলায় এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে ৫৫ শতাংশ বেশি।

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি বিহার, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষার শেষমাস সেপ্টেম্বরে পৌঁছেও মোট বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে এখনও এক নম্বরেই রয়েছে বাঁকুড়া জেলা (১৪৪২.৫ মিমি)। এটা ওই জেলায় এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে ৫৫ শতাংশ বেশি। তবে মোট বৃষ্টির নিরিখে রাজ্যের মধ্যে এক নম্বরে আছে কালিম্পং জেলা। সেখানে মোট ১৭৮৯.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। তবে এত বৃষ্টি হলেও সেখানকার স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ১০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে ওই জেলায়। স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও সেটাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানে ঘাটতি হিসেবে ধরা হয় না। সেই হিসেবে কালিম্পংয়ে বৃষ্টির ঘাটতি হয়নি। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে কালিম্পং ছাড়া মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টির কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু বাকি জেলাগুলি অর্থাৎ উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় ২৪ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টি কম হওয়ায় ঘাটতি রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই জুন থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সার্বিকভাবে বৃষ্টির কোনও ঘাটতি নেই। পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম ছাড়া  কলকাতাসহ সব জেলাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই বৃষ্টি হয়েছে। ওই দুটি জেলাতেও যতটা কম বৃষ্টি হয়েছে সেটাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ঘাটতি বলবেন না। এই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় পূর্ব মেদিনীপুরে ১০ শতাংশ ও ঝাড়গ্রামে ২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। 

Advertisement

এবার প্রায় সারা দেশেই বৃষ্টি হয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তার মধ্যে ব্যতিক্রম বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারত। ওই দুটি অঞ্চলে কিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি আছে। বিহারে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৭-৩৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে অসম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে। 
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাংশ এবং হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গে এবার বৃষ্টির ঘাটতির কারণ অভিন্ন—মৌসুমি অক্ষরেখার নীচের অংশে নামার প্রবণতা কম এবং দেশের উপরের অংশে অক্ষরেখার সক্রিয়তা বেশি। বঙ্গোপসাগরে যে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে সেগুলি মূলত ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ (একটি অন্ধ্রপ্রদেশ) উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করে মধ্য ভারত হয়ে পশ্চিম ভারতের দিকে গিয়েছে। সম্প্রতি যে নিম্নচাপটি হয়েছিল সেটি ওড়িশা দিয়ে ঢুকে রাজস্থান-গুজরাতের দিকে যাচ্ছে। এটি স্থলভূমির উপর শক্তি বৃদ্ধি করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত দেবে। জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্তের জন্য উত্তর ভারত জুড়ে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ