দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্য বাংলায় জিআরপি এবং আরপিএফের মধ্যে আরও সমন্বয় চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল বোর্ডের আধিকারিকদের বক্তব্য, যদি রাজ্যে রাজ্যে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা না যায়, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই তিমিরেই পড়ে থাকবে।
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই তালিকায় রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেসের নামও। এমনকি পেট্রলে চোবানো কাপড়ের টুকরো মিলেছে হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মিথিলা এক্সপ্রেসে। যাবতীয় ঘটনার পিছনে সামগ্রিকভাবে অন্তর্ঘাতের তত্ত্বই খাড়া করেছে রেলমন্ত্রক। মোদি সরকারের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, দুষ্কৃতীদের কারসাজিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে তাই জিআরপির সঙ্গে আরপিএফের সমন্বয় রক্ষার বিষয়কে অত্যন্ত লক্ষণীয় বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। উল্লেখ্য, আরপিএফ কেন্দ্রের অধীনে থাকে। অন্যদিকে জিআরপি কাজ করে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের আওতায়। রেল যাত্রী এবং রেলের সম্পত্তি রক্ষার দায়ভার থাকে আরপিএফের উপর। জিআরপি সার্বিকভাবেই আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সামলায়। আরপিএফের হাতে কোনো দুষ্কৃতী পাকড়াও হলে তাকে জিআরপির হাতে তুলে দেওয়াই দস্তুর। বিএনএসের সংশ্লিষ্ট ধারা মেনে এফআইআর দায়ের করে সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারে জিআরপিই। অর্থাৎ, রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে আরপিএফ এবং জিআরপি দু’পক্ষের ভূমিকাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ, রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে আরপিএফের সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছে জিআরপি। ফলে বিভিন্ন সময় দু’পক্ষের কর্তা-ব্যক্তিদেরই প্রবল অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেই অভিযোগ।
বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর এহেন প্রেক্ষাপট পাল্টাতে চলেছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ট্রেনে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব সামনে আসার পরই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আরপিএফের শীর্ষ আধিকারিকরা ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই বৈঠকেই আরপিএফের সঙ্গে জিআরপির সমন্বয়ের প্রসঙ্গ তুলেছেন রেলমন্ত্রী স্বয়ং। বাংলার পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে আরপিএফকে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। পরপর কিছু ঘটনায় প্রত্যাশিতভাবেই যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তা মাথায় রেখেই মন্ত্রী এদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে এব্যাপারে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার করতে হবে। কীভাবে রেল যাত্রীরা এবিষয়ে সতর্ক থাকবেন, তা প্রয়োজনে হাতেকলমে বোঝাতে হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরপিএফকে নজরদারি চালানোর কথাও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।