নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর যা স্থান করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও। কিন্তু উৎসবের মরশুমে সেই দুর্গাপুজোকেই কার্যত উপেক্ষার পথে হাঁটল রেলমন্ত্রক। তাদের পরিকল্পনায় বেমালুম ‘বাদ’ পড়ে গিয়েছে দুর্গাপুজো! দীপাবলি এবং ছট হয়ে উঠেছে যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান। উৎসবের মরশুমে ট্রেনের টিকিটে শর্তসাপেক্ষে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে রেলমন্ত্রক। শনিবার তারা জানিয়েছে, এই সময় ‘রাউন্ড ট্রিপ’ জার্নির রিটার্ন টিকিটে ২০ শতাংশ ছাড় মিলবে। এক্ষেত্রে ‘অনওয়ার্ড’ জার্নি হতে হবে আগামী ১৩ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে। অর্থাৎ, এই টিকিটের অগ্রিম বুকিং শুরু হবে আগামী ১৪ আগস্ট থেকে। আর রিটার্ন জার্নি করতে হবে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে। এবার দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী পড়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর। বিজয়া দশমী আগামী ২ অক্টোবর। ফলে দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে রেলের যে কোনও পরিকল্পনা নেই, তা এতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাতেই উঠে আসছে আবারও বাংলা ও বাঙালিকে উপেক্ষা, বঞ্চনার প্রশ্ন।
রেল জানিয়েছে, বর্তমানে ৬০ দিনের যে ‘অ্যাডভান্স রিজার্ভেশন পিরিয়ড’ (এআরপি) চালু রয়েছে, ছাড় সংবলিত রিটার্ন জার্নিতে তা থাকবে না। তবে ‘ফ্লেক্সি ফেয়ার’ যুক্ত ট্রেন, অর্থাৎ রাজধানী, দুরন্ত, শতাব্দীর মতো কোনও এক্সপ্রেসে এই ছাড় কার্যকর হবে না। আরও বলা হয়েছে, ওয়েটিং লিস্ট কিংবা আরএসি নয়, ২০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা মিলবে শুধু ‘কনফার্মড’ টিকিটেই। ‘অনওয়ার্ড’ এবং ‘রিটার্ন’—দু’ক্ষেত্রেই টিকিট ‘কনফার্মড’ হতে হবে। আর এখানেই মোদি সরকারের ‘জুমলা’ প্রত্যক্ষ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রেলযাত্রীদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলছে, এমনিতেই যেখানে ট্রেনের ‘কনফার্মড’ টিকিট পেতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়, সেখানে উৎসবের মরশুমে দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে আদৌ কি ‘কনফার্মড’ টিকিট পাওয়া যাবে? এ তো তাহলে ‘সোনার পাথরবাটি’ হয়ে গেল! রিটার্ন জার্নির বেস ফেয়ারে ২০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা হলেও ‘কনফার্মড’ টিকিটের শর্তের গেরোয় আদতে কতজন এই সুযোগ নিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রয়েছে আরও শর্ত। যেমন, রাউন্ড ট্রিপে দু’বারের জার্নিতেই যাত্রীদের মধ্যে কোনও ফারাক থাকা চলবে না। দুই ক্ষেত্রেই একই শ্রেণির টিকিট হতে হবে। টিকিট বাতিল হলে ‘রিফান্ড’ মিলবে না। এই সুবিধা নিতে গেলে অন্য কোনওরকম ছাড়ও গ্রহণযোগ্য হবে না। দু’দিকের টিকিটই ই-বুকিং অথবা অফলাইনে কাটতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে এই ছাড় চালু করছে রেল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এখন বাংলা ভাষা ও বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। এই আবহে বাঙালির প্রধান উৎসবও কি উপেক্ষার শিকার? এই প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই অনেকে মনে করছেন, বিহার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ছট ও দীপাবলি নিয়ে রেলের এই তৎপরতা।