নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে রেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢিলেমির কারণ হিসাবে অতীতে একাধিকবার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে মোদি সরকার। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল কিংবা বর্তমান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বারবার দাবি করেছেন যে, তৎকালীন রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত জমি অধিগ্রহণ করে দেয়নি। সেই কারণে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের কাজও সময়ে শেষ করা যায়নি। কিন্তু বাংলায় এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার রয়েছে। গত ৪ মের পর রাজ্যে প্রথমবারের জন্য বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। অথচ রাজ্যের বিজেপি সরকারের আমলেও রেলের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পড়ে রয়েছে কার্যত সেই তিমিরেই! রাজ্যের মোট ছ’টি রেল প্রকল্পের জন্য জমি চাই ৩৭৯ হেক্টর। যদিও হাতে এসেছে (অ্যাওয়ার্ডেড) মাত্র ৪৬ হেক্টর জমি। শুক্রবার সংসদে একথা জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। তবে তা সত্ত্বেও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লিখিতভাবেই জানিয়েছেন যে, মে মাসের পর থেকে রাজ্যে রেলের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার রাজ্যসভায় বাংলায় রেলের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নির্দিষ্ট করে জানতে চান যে, মে মাসের পর থেকে রাজ্যে এসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কোনো গতি এসেছে কি না। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংশ্লিষ্ট ছ’টি রেল প্রকল্পের উল্লেখ করেছেন। ওই ছ’টি প্রকল্প হল, ১) কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর নিউ লাইন, ২) নৈহাটি-রানাঘাট থার্ড লাইন, ৩) সাঁইথিয়ায় বাইপাস নির্মাণ, ৪) আড়া স্টেশন থেকে রুকনি পর্যন্ত রেল ফ্লাইওভার, ৫) পুরুলিয়া থেকে গৌরীনাথধাম পর্যন্ত রেল ফ্লাইওভার এবং ৬) নবদ্বীপঘাট-নবদ্বীপধাম নিউ লাইন। এই ছ’টি প্রকল্পের মধ্যে সবথেকে বেশি জমি প্রয়োজন কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর নিউ লাইন প্রকল্পে। ১৬৮ হেক্টর। এক্ষেত্রেই ৪৬ হেক্টর জমি মিলেছে।
রেলমন্ত্রী লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, ১২২ হেক্টর জমির জন্য অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নবদ্বীপঘাট-নবদ্বীপধাম নিউ লাইন প্রকল্পের জন্য জমি প্রয়োজন ১০৭ হেক্টর। এক্ষেত্রে জমির দাম পুনর্বিবেচনা করে দেখছে বলে এদিন লিখিত জবাবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। বাকি প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও হয় প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে অথবা ‘কম্পিটেন্ট অথরিটি ফর ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন’ (সিএএলএ) মনোনীত করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, দিনের আলো দেখতে পাওয়া এখনও ঢের দেরি। রাজ্যে এখনও সবমিলিয়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ রেলের জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। এদিনের লিখিত জবাবেও তার উল্লেখ করেছেন রেলমন্ত্রী।