


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: লেভেল ক্রসিংয়ের মাঝখানে ট্রেন শানটিং বা বগি আগুপিছু করায় দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে বাকসাড়ার চারটি রেলগেট। ফলে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রেলগেট বন্ধ থাকায় প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে তীব্র যানজট। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ গেট বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সও আটকে থাকে রাস্তায়। বহুবার রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বাকসাড়া রেলগেটের কাছে অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন। পাশাপাশি হয় প্রতিবাদ সভাও। পরে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। বাকসাড়ার জানা গেট, বেতড় গেট, বাকসাড়া গেট ও ১২ নম্বর গেট— এই চারটি লেভেল ক্রসিংয়েই মূলত সমস্যাটি প্রকট বলে অভিযোগ। অবস্থানকারী বাসিন্দা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রেলকে আমরা ১৫ দিন সময় দিচ্ছি। তার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’
অন্য এক বাসিন্দা দেবাঞ্জন সিনহা বলেন, ‘এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। হয় আন্ডারপাস, না হলে ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে। বহু বছর ধরে বাকসাড়ার মানুষকে এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। পড়ুয়া থেকে অসুস্থ মানুষ, সবাইকেই জরুরি কাজে বেরিয়ে রেলগেটের জ্যামে আটকে থাকতে হচ্ছে।’
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার এমনও হয়েছে যে, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়ি দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকেছে বন্ধ গেটের সামনে। অভিযোগ, সম য়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ‘আমরা নিজেদের প্রিয়জন হারিয়েছি। আর নয়, দ্রুত সমাধান চাই।’
প্রসঙ্গত, আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হাওড়া সদরের তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও লিখিত আবেদন— দু’ভাবেই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা পদক্ষেপ করেনি। তবে রেলের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।