Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা আটকে রেখেছিল রায়গঞ্জ পুরবোর্ড! ১১ বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে বকেয়া পাবেন ঠিকাদাররা

রায়গঞ্জ পুরসভায় ১১ বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে ঠিকাদাররা বকেয়া টাকা পাবেন। রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠছে তারা। বিস্তারিত পড়ুন।

টাকা আটকে রেখেছিল রায়গঞ্জ পুরবোর্ড! ১১ বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে বকেয়া পাবেন ঠিকাদাররা
  • ৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাজ শেষ করলেও বকেয়া টাকা দেয়নি তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড। আবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ১১ বছর পর বকেয়া টাকা পেতে চলেছেন ঠিকাদাররা। 

Advertisement

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুরসভায় ২০১৫ সালের টেন্ডারে কাজ পেয়েছিলেন ২০০ জন ঠিকাদার। কাজ শেষ করার পর ফিট সার্টিফিকেট পেলেও তাঁদের টাকা মিটিয়ে দেয়নি তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড। উপায় না দেখে অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে বিচারপতি রাজাবসু চৌধুরী নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে মামলাকারী ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। আবেদনকারীদের আইনজীবী গৌতম ঠাকুর বলেন, ‘ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সকলেই টাকা পাওয়ার যোগ্য। তাও এতদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।’ 
ঘটনা হল, ২০১৫ সালের কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান মোহিত সেনগুপ্তর নির্দেশে টেন্ডার ইস্যু করে ২৭১টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালের মধ্যেই  ৯ কোটি টাকার কাজ শেষ করেছিলেন ২০০ জন ঠিকাদার। কিন্তু ২০১৭ সালের পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুরসভার প্রশাসক পদে বসেন এসডিও। অভিযোগ, তৃণমূলের অঙ্গুলিহেলনেই তৎকালীন পুর প্রধান মোহিতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অনুমোদন ছাড়াই কাজের অভিযোগ করেন প্রশাসক তথা এসডিও। ফলে রাজনৈতিক রোষের শিকার হন মোহিত আমলে কাজ পাওয়া ওই ঠিকাদাররা। তাঁদের টাকা আটকে দেয় পরবর্তীতে পুরসভার দায়িত্বে আসা তৃণমূল পরিচালতে বোর্ড। এমনকি বিষয়টি তদন্তের জন্য তৎকালীন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশে ৩ সদস্যের  কমিটিও গঠন করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে কাজ নিয়ে ক্লিনচিট দেওয়ার পরও টাকা মেটাতে অস্বীকার করে পুরসভা। শেষমেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ঠিকাদাররা। 
হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রাজ্যকে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় পুরসভা। ডিভিশন বেঞ্চ পুরসভার আবেদন খারিজ করে দু’মাসের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু একজন ঠিকাদার ৭৯ লক্ষ টাকা পেলেও বাকিদের ভাগ্য ঝুলেই থাকে। অবশেষে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ উত্থাপন করে অধিকাংশ ঠিকাদার ফের আদালতের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, ‘কমিটি ক্লিনচিট দিয়েছে। টেন্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছে। একযাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না।’ এরপরই মামলাকীর ঠিকাদারদের মোট ৬০ লক্ষ বকেয়া টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ