নয়াদিল্লি, ১ নভেম্বর: ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এই তিন প্রশ্নকে সামনে রেখেই রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু করল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে রামলীলা ময়দানের বিশাল জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি তাঁর হুঁশিয়ারি, ভোট কারচুপির অভিযোগের জবাব একদিন তাঁকে দিতেই হবে। এমনকি পদ ছাড়ার পাশাপাশি জেলেও যেতে হতে পারে তাঁকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা।
রামলীলা ময়দানের সভা থেকে রাহুলের অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং সংবিধানের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। ভোট চুরি কোনও সাধারণ চুরির ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি কোনও দোকান থেকে জিনিস চুরির মতো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি নাগরিকের ভোট এবং কণ্ঠস্বর চুরি’।
‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। রাহুলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই অনিয়মের ফলে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অপরদিকে রাহুলকে পালটা জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। সভার দিনক্ষণ নিয়েই বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয় গেরুয়া শিবির। অমিত শাহের অভিযোগ, ৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ আয়োজন করে সেই হিংসার শিকার পরিবারগুলির ক্ষতে নুনের ছিটে দিচ্ছে বিরোধীরা।



