Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উল্টোরথে বকুলকুঞ্জে রাজা সাজেন রাধারানি

লালগড় রাজ পরিবারের হাত ধরে চলে আসা ৩০০ বছরেও প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব। রথের দিনে  তিন জেলার মানুষ উৎসবে মিলিত হন।

উল্টোরথে বকুলকুঞ্জে রাজা সাজেন রাধারানি
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: লালগড় রাজ পরিবারের হাত ধরে চলে আসা ৩০০ বছরেও প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব। রথের দিনে  তিন জেলার মানুষ উৎসবে মিলিত হন। উৎসব  ঘিরে লালগড়ে আট দিন ধরে মেলা চলে। লালগড় ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় ও সীমান্তবর্তী বাঁকুড়া জেলা থেকে এই রথের মেলায় তিন জেলার মানুষ মিলিত হয়ে এক সপ্তাহভর আনন্দে মেতে ওঠেন। ঝাড়গ্রাম জেলার মধ্যে লালগড়ের রথযাত্রা উৎসব অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। উল্টোরথের আগের দিনে মন্দিরে বকুলকুঞ্জ এই উৎসবের বড় চমক।

Advertisement

প্রতিবছররথের সময় লালগড় রাজপরিবারের রাধামোহনজিউও কুলদেবতার মন্দির থেকে কুলদেবতা ও জগন্নাথদেব উপবিষ্ট রথমন্দিরকে রথতলা রাজবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে লালগড় বাজারের মন্দির অর্থাৎ ‘মাসির বাড়ি’তে রথ নিয়ে যাওয়া হয়। লালগড় বাজারের এই মন্দির রাজ আমলের তৈরি। উল্টো রথের আগের দিনে এই মন্দিরে ‘বকুল কুঞ্জ’ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈচিত্র্য হল রাধারানিকে রাজা সাজানো হয়। বকুল কুঞ্জ অনুষ্ঠান দেখার জন্য এদিন সর্বসাধারণের জন্য সারাদিন মন্দির খোলা থাকে।
রাজ পরিবার, সেবায়েত ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বকুলকুঞ্জ বলতে, রাধামোহন জিউ মন্দিরের শ্রীমতী ঠাকুর অর্থাৎ রাধাকে এখানে তিনবার রায়রাজা সাজানো হয়। রাধামোহন জিউ মন্দিরেই রয়েছে রাজবাড়ির কুলদেবতা। প্রাচীনকালে এই মন্দিরের তিন সেবায়েত ছিলেন। তাঁরা হলেন পৃথ্বীশ নারায়ণ, প্রদ্যোৎ কুমার ও প্রত্যুষ কুমার। তাঁরা তিনজনই প্রয়াত। তাঁদের উত্তরসূরিরা এখন সেবায়েতের দায়িত্বে। এসব কিছুর পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি চঞ্চল সাহসরায়, অরূপ সাহসরায় ও দর্পনারায়ণ সাহসরায় এই তিনজনের নামে রয়েছে। রাধামোহন জিউ মন্দিরের কুল দেবতার সঙ্গেই জগন্নাথদেবের মূর্তিও উপবিষ্ট। আগে এখানে কাঠের চাকার রথ ছিল। সেই চাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৩২ বছর আগে লোহা দিয়ে তৈরি হয় রথের চাকা।  বাইরে থেকে একজন কারিগর এনে স্থানীয় কারিগরদের দিয়ে ওই রথ তৈরি করা হয়েছে। লালগড়ের বাসিন্দা সুদীপ্ত মাহাতো বলেন, লালগড় রাজবাড়ির রাধামোহনজিউ মন্দিরের কুল দেবতা খুবই জাগ্রত। এটাই প্রাচীনকাল থেকে এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে আসছেন। এখানের রথের উৎসব দুর্গাপুজোর চাইতেও বেশি জাঁকজমক। এত বড় রথের উৎসব ধারে কাছে আর কোথাও হয় না।  এই সময় রাজবাড়ি সাধারণের জন্য খোলা থাকে। অনেকেই উৎসবে এসে রাজবাড়ি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।  যুব উৎসবের মতো এই মেলায় নাগরদোলা, চাষবাসের জিনিস সহ সমস্তকিছু পাওয়া যায়। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ জিলিপি।
রাজ পরিবারের সদস্য তথা রথযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা অনুপ সাহসরায় বলেন, এই রথযাত্রা প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরানো। মেলার আকর্ষণ নাগরদোলা ও  কীর্তন গান। বিগত বছরগুলির মতোই এবারও রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে।  রথযাত্রার বিশেষ মাহাত্ম্য বকুলকুঞ্জে শ্রীমতীকে রায়রাজা সাজানো। এই অনুষ্ঠান দেখতেই তিন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ