Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বই পড়তে ‘বদ্ধপরিকর’ রবীন্দ্রনাথ

বই পড়তে ‘বদ্ধপরিকর’ রবীন্দ্রনাথ
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শৈশব থেকেই ‘বইপোকা’ ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেও ডুবে থাকতেন বইয়ের পাতায়। ‘জীবনস্মৃতি’তে কবি জানিয়েছেন, নিতান্ত বালক বয়সে ‘কুমারসম্ভব’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘শকুন্তলা’ পড়া হয়ে গিয়েছিল তাঁর। পাঠ্য-অপাঠ্য কোনও বাছবিচার ছিল না। সব ধরনের বই পড়তেই ভালোবাসতেন। তার মধ্যে থাকত ‘বড়দের’ বইও। তেমনই একটি বই পড়তে গিয়ে এক মজার কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। দীনবন্ধু মিত্র ‘জামাই বারিক’ নামের একটি প্রহসন লিখেছিলেন। একদিন কবি দেখলেন, তাঁর এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়া পড়ছেন সেই প্রহসন। বইটি পড়ার জন্য চাইলেন রবীন্দ্রনাথ। তবে আত্মীয়া দিতে চাননি। তিনি জানিয়ে দেন, বইটি মোটেও শিশুদের উপযোগী নয়। বইটির প্রতি রবীন্দ্রনাথের কৌতূহল বাড়ল। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, বইটি পড়বেন। আত্মীয়া বইটি একটি বাক্সে রেখে চাবি দিয়ে দিলেন। চাবি বাঁধা থাকল আঁচলে। পিঠে ঝুলছিল চাবি। দুপুরে সেই আত্মীয়া গ্রাবু (এক ধরনের তাস খেলা) খেলতে মগ্ন। আত্মীয়া যখন খেলায় মগ্ন, সেই সময় আঁচল থেকে কৌশলে চাবি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন কবি। চাবি পিঠ থেকে নামিয়ে রাখা হল কোলে। তিনি জানতেন, আত্মীয়া দোক্তা খেতেন। জোগাড় করলেন দোক্তা। আত্মীয়ার সামনে রেখে দিলেন। নেশার জিনিস দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না তিনি। দোক্তা খেয়ে পিক ফেলতে উঠলেন আত্মীয়া। কোল থেকে আঁচল পড়ল মাটিতে। সুযোগ বুঝে চাবিখানা সরিয়ে নেন রবীন্দ্রনাথ। বইটি পড়ে কৌতূহল নিরসন হল কবির। যথাসময়ে বইটি ফেরত দিলেন মালকিনকে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমার আত্মীয়া ভর্ৎসনা করিবার চেষ্টা করিলেন কিন্তু তাহা যথোচিত কঠোর হইল না; তিনি মনে মনে হাসিতেছিলেন— আমারও সেই দশা।’

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ