


ম্যাঞ্চেস্টার: যশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। চলতি টেস্টে বল হাতে একেবারেই নিষ্প্রভ তিনি। দ্বিতীয় নতুন বলে তো এক ওভারের বেশি বলই করলেন না। উঠে গেলেন ড্রেসিং-রুমে। মাঠে ফেরার পরও বল করতে পারলেন না বেশ কিছুক্ষণ। আম্পায়ার সাফ জানিয়ে দেন যে, দীর্ঘক্ষণ মাঠের বাইরে থাকায় চা বিরতির আগে তাঁর বোলিং করায় থাকছে নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ দ্বিতীয় নতুন বলে দলের সেরা অস্ত্রকেই ব্যবহার করা গেল না। দুর্ভাগ্য নাকি পরিকল্পনায় খামতি, প্রশ্ন থাকছেই।
বুমরাহকে অবশ্য বাঁ পায়ের গোড়ালি নিয়ে বারবার বিব্রত দেখাল। তাহলে কি তিনি চোট নিয়ে খেলছেন? পরে তো মহম্মদ সিরাজও গোড়ালির সমস্যায় বেরিয়ে গেলেন। ভারতীয় শিবিরে সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। ধরা পড়ছে ক্যাপ্টেন শুভমান গিলের অনভিজ্ঞতাও। শোনা যাচ্ছে, কোচ গৌতম গম্ভীর নাকি খেলা চলাকালীনই ড্রেসিং-রুমে ডেকে পাঠান অধিনায়ককে। গিলের পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ জানাতেই কি? শুক্রবার সকালে আবার ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল অনভিপ্রেত এক ছবি। খেলা শুরুর আগে গম্ভীর ও বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলকে উত্তেজিত ভাবে কিছু যেন বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন বুমরাহ। দৃশ্যতই বিরক্ত লাগছিল তাঁকে। বৃহস্পতিবার উল্টোদিক থেকে কোনও সতীর্থ বোলারের সাহায্য পাননি তিনি। সেজন্যই কি এই হতাশা? নাকি, এই টেস্টে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলতে বাধ্য হওয়াটাই রাগের মূল কারণ? ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী পরে বিশ্লেষণ করেন, ‘সতীর্থ বোলারদের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে যাচ্ছে বুমরাহ। অন্যরা রান বিলিয়েই চলেছে। একমাত্র বুমরাহই রানের গতি কিছুটা আটকাচ্ছে। যতই বিশ্বের সেরা বোলার হোক না কেন, এই পরিস্থিতি রীতিমতো চাপের।’
সতীর্থরা না হয় প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ, কিন্তু বুমরাহই বা কী করছেন? শুক্রবার তাঁর উইকেট এল তৃতীয় সেশনের শেষের দিকে, ২৫তম ওভারে। ততক্ষণে ইংল্যান্ড পাঁচশো পেরিয়ে গিয়েছে। তবে কি সতীর্থদের দায়সারা বোলিংই ফোকাস নষ্ট করেছে বুমবুমের? সেই আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি সিরিজে দলকে কোনও ম্যাচেই জয়ের পথ দেখাতে পারেননি বুমরাহ। হেডিংলে টেস্টে পৌনে চারশো রানের পুঁজি নিয়েও হারতে হয়। আর লর্ডসে দুশোর কম রানের টার্গেটও তাড়া করতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। অথচ ওই দুই ম্যাচে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ‘বুমবুম।’ কিন্তু তা কাজে আসেনি। অর্থাৎ, বোলার বুমরাহর সাফল্য মানেই দলের জয় নিশ্চিত নয়। বরং যে টেস্টে তিনি খেলেননি, সেই এজবাস্টনে সিরাজ-আকাশদীপরা বাড়তি তাগিদ দেখিয়ে জেতান দলকে।
চাপ দিয়ে খেলানো হচ্ছে বলেই কি নিজেকে নিংড়ে দিতে পারছেন না? কিন্তু চতুর্থ টেস্টের আগে তো সপ্তাহখানেকেরও বেশি বিশ্রাম ছিল। আর দলের প্রয়োজনে খেলতে না পারলে স্কোয়াডের সঙ্গে ঘোরার দরকারটাই বা কী? তাহলে তো বুমরাহকে তুলোয় মুড়ে আলমারিতে সাজিয়ে রাখলেই হয়। স্রেফ আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলার সময় বের করলেই হল!