Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

পিরামিড রহস্য

পিরামিড রহস্য
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রাচীন মিশরীয় পিরামিড নির্মাণের কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীরা যুগ যুগ ধরে গবেষণা করেছেন। কীভাবে এত বিশাল পাথরের খণ্ড তোলা এবং সাজানো সম্ভব হয়েছিল, তা ছিল এক বড় রহস্য। একদল গবেষকের মতে, এই রহস্যের মূল চাবিকাঠি হতে পারে জলবিদ্যুৎ প্রযুক্তি।

Advertisement

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মিশরের সাক্কারায় অবস্থিত ‘স্টেপ পিরামিড অব জোসের’, যা প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। সেখানে জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। স্টেপ পিরামিডকে ধরা হয় সাতটি বিশাল পিরামিডের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এবং তা আজও স্থাপত্যের এক বিস্ময়। গবেষকদের মতে, স্টেপ পিরামিডের ভেতরের গঠন ও নকশা এমন এক প্রযুক্তির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে জলচাপ ব্যবহার করে পাথরের খণ্ডগুলি একের পর এক উপরে তোলা হতো। তারা এই পদ্ধতিকে ‘ভলকানো ফ্যাশন’ বা ‘আগ্নেয়গিরির মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। যদি এই ধারণা সত্যি হয়, তাহলে তা প্রমাণ করে যে, প্রাচীন মিশরীয়রা আমাদের ধারণার থেকেও অনেক আগে উন্নত জলবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ব্যবহার জানতেন।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, পিরামিড নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ ও জল ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সাক্কারার নিকটবর্তী একটি বিশাল কাঠামো—‘গিসর এল-মুদির এনক্লোজার’, কিছুটা রহস্যময় হলেও গবেষকদের মতে, এটি আসলে ছিল একটি চেক ড্যাম বা বাঁধ, যার কাজ ছিল পলি এবং জল ধরে রাখা। আশপাশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা ধারণা করছেন, ড্যামের পাশে একটি অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যা স্টেপ পিরামিড কমপ্লেক্সের চারপাশে খাল বা জলরোধী দেওয়াল তৈরি করেছিল। নীলনদের একটি শাখা নদী থেকে আসা জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এই ড্যামের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে জল জমিয়ে রাখা সম্ভব হতো। এই অস্থায়ী হ্ব্রদ ও সংযুক্ত ‘ড্রাই মোয়াট’ বা শুকনো খাল পিরামিড নির্মাণের সময় জলবিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ করত এবং নির্মাণ সামগ্রী পরিবহণের জন্যও সুবিধা দিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ