Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলিল থাকলেও পুশব্যাক বাঙালিকে, ক্ষুব্ধ মমতা

কয়েক প্রজন্ম ধরে ভারতীয় নাগরিক? তাতে কী? ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ আমলের দলিল থাকলেও, ছাড় পাননি মালদহের কালিয়াচকের আমির শেখ। রাজস্থানে গিয়েছিলেন কাজ করতে।

দলিল থাকলেও পুশব্যাক বাঙালিকে, ক্ষুব্ধ মমতা
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ১০:০৭
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মাথাভাঙা, কালিয়াচক ও মালদহ: কয়েক প্রজন্ম ধরে ভারতীয় নাগরিক? তাতে কী? ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ আমলের দলিল থাকলেও, ছাড় পাননি মালদহের কালিয়াচকের আমির শেখ। রাজস্থানে গিয়েছিলেন কাজ করতে। বাঙালি হওয়ার অপরাধে তাঁকে পুলিস প্রথমে আটক করে। দু’মাস আটকে রাখার পর কিছুদিন আগে এই ভারতীয়কে বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে জেসিবিতে চাপিয়ে ছুড়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। 

Advertisement

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর বাড়তে থাকা অত্যাচারের  বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমেরিকাও। নিউইয়র্কের এক মানবাধিকার সংগঠনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তথ্য এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শনিবার আরও একবার গর্জে উঠেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন— ‘লজ্জা! আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন বাঙালিদের উপর ভাষাগত সন্ত্রাস নিয়ে সরব। এখনই এসব বন্ধ হওয়া উচিত।’
কালিয়াচকের আমিরের পুশব্যাকের পর ভিনরাজ্যে থাকা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভয় আরও বাড়ছে। এদিন আমিরের বাড়িতে গিয়েছিলেন বাংলা পক্ষের সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় সহ সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁদের ১৯৪১ সালের দলিল দেখান বাবা জিয়েম শেখ। হতাশ গলায় তাঁর মন্তব্য, ‘এত পুরনো দলিল থাকতেও, আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে কেন, মাথায় ঢুকছে না!’ মালদহের জেলাশাসক নাতিন সিংঘানিয়া এদিন বলেছেন, কালিয়াচকের ওই বাসিন্দাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
পরিস্থিতি অবশ্য দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দিনহাটার উত্তমকুমার ব্রজবাসী, ফালাকাটার অঞ্জলি শীলের পর এবার অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নোটিস ধরিয়েছে মাথাভাঙার লতাপোঁতার নিশিকান্ত দাসকেও। গত ১৮ মার্চ কামরূপ জেলা প্রশাসন ইস্যু করেছিল সেই নোটিস। মাস দুয়েক আগে ঘোকসাডাঙা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার তা পৌঁছে দেন। গত ২০ মে’র মধ্যে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করার নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একবার কাগজ জমাও দিয়ে এসেছেন। তখন বলা হয়েছিল, ১৯৫৮ সালের ভোটার লিস্টে বাবার নাম আছে কি না, সেটা জমা দিতে হবে। তাঁর কথায়, নোটিস পাওয়ার পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মনের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি সমাধানের কোনও পথ বাতলাতে পারেননি।

সম্পর্কিত সংবাদ