সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পড়ুয়া শূন্য প্রাথমিক স্কুলগুলি থেকে এবার শিক্ষক তুলে নিতে চাইছে রাজ্য। সেই সঙ্গে জেলায় শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে যে সব স্কুলে ‘সারপ্লাস’ শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন তাঁদের শিক্ষকের ঘাটতি থাকা স্কুল গুলিতে বদলি করা হবে। শুক্রবার এবিষয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব স্কুল পড়ুয়া শূন্য সেগুলিতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওই স্কুলের পরিবর্তে অন্যত্র বদলির কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী কোথাও স্কুলে পড়ুয়ার অনুপাতে শিক্ষক বেশি রয়েছেন আবার কোথাও পড়ুয়ার সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্যাও খুব কম। সাধারণত শহর বা শহর লাগোয়া বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। গ্রামীণ প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। ওই ঘাটতি মেটানোরই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে জানাগিয়েছে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলিতে নতুন করে আর চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকই শিক্ষা সংসদেরও দায়িত্বে রয়েছেন। আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের কয়েকমাস আগেও শিক্ষা দপ্তরের এরকম এক নির্দেশিকার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে আসে। সেসময় এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলগুলিতে দ্রুত ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকদের পাঠিয়ে শিক্ষকের ঘাটিত পূরণের কথা বলা হয়েছিল। তেমন কাজও হয়েছিল। রাজ্যের মধ্যে এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলের তালিকার নিরিখে প্রথমেই নাম ছিল পুরুলিয়ার। সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষকদের পাঠিয়ে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, শহরের অতিরিক্ত শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলগুলিতে পাঠানোর কথা অনেক আগে থেকেই এবিটিএ দাবি করে আসছে। বিগত সরকারের সময়েই এমন নির্দেশ এলেও তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকরী হয়নি। এবার কার্যকর হলে গ্রামের স্কুলগুলি অন্তত বাঁচবে।
পুরুলিয়া জেলায় শূন্য পড়ুয়ার কোনও প্রাথমিক স্কুল বর্তমানে নেই। এবিষয়ে বিজেপি টিচার্স সেলের পুরুলিয়া জেলা আহ্বায়ক শুভেন্দু দত্ত বলেন, এমনটা হওয়ারই ছিল। শহর এবং শহর লাগোয়া স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যার তুলনায় শিক্ষক, শিক্ষিকা বেশি। গ্রামের দিকে ঠিক উল্টো। গ্রামের ক্ষেত্রে সরকারি স্কুল গুলিই মূল ভরসা। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে বেশি সংখ্যক সারপ্লাস রয়েছেন সেখান থেকে আগে শিক্ষক বদলি করা হোক এবং এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলগুলিতে আগে শিক্ষক দিতে হবে। সেই সঙ্গে সারপ্লাস শিক্ষকের প্যানেলের ক্ষেত্রে ডিপিএসসির অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ কর্তা ডিপিএসসি।