Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

সরকারি অনুষ্ঠানে স্লিভলেস পোশাকের ‘শাস্তি’! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে বাধা ছাত্রীকে

মঞ্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁকে সংবর্ধিত করার দায়িত্ব ছিল এক ছাত্রীর উপর। কিন্তু, বাধ সাধল তাঁর স্লিভলেস পোশাক। এই পোশাকে তাঁকে মন্ত্রীর কাছে যেতে বাধা দিলেন আধিকারিকরা। এহেন মধ্যযুগীয় মানসিকতার অভিযোগ উঠল ডবল ইঞ্জিন দিল্লিতে।

সরকারি অনুষ্ঠানে স্লিভলেস পোশাকের ‘শাস্তি’! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে বাধা ছাত্রীকে
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মঞ্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁকে সংবর্ধিত করার দায়িত্ব ছিল এক ছাত্রীর উপর। কিন্তু, বাধ সাধল তাঁর স্লিভলেস পোশাক। এই পোশাকে তাঁকে মন্ত্রীর কাছে যেতে বাধা দিলেন আধিকারিকরা। এহেন মধ্যযুগীয় মানসিকতার অভিযোগ উঠল ডবল ইঞ্জিন দিল্লিতে। তাও আবার মোদি সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানেই! বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা ঝড় উঠেছে। জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সে মহিলা ইউথ পার্লামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রক। বিষয় নারী শক্তি: বিকশিত ভারত কি আওয়াজ—সার্বিক গণতন্ত্র। অংশ নিয়েছিলেন ৫০০-এর বেশি ছাত্রী। মুখ্য অতিথি হিসাবে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বেশ কয়েকজন আধিকারিকও। তাঁর সামনে শুধু স্লিভলেস পোশাক পরায় এক পড়ুয়াকে আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা আদপে মোদি জমানায় নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃত চিত্রকেই বেআব্রু করে দিল। এমনটাই মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগান, মহিলা ক্ষমতায়ন নিয়ে তাঁর লম্বা-চওড়া ভাষণ নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। 

Advertisement

ওই ছাত্রীর নাম সারা শর্মা। বয়স ১৯। দৌলত রাম কলেজের পড়ুয়া। ইউথ পার্লামেন্টে মহিলা ও শিশু কল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ারও কথা ছিল সারার। অভিযোগ, স্টেজে ওঠার আগেই স্লিভলেস কুর্তি পরায় তাঁকে আটকে দেন এক আধিকারিক। সারার বদলে অন্য এক ছাত্রীকে মঞ্চে তোলা হয়। এই ঘটনায় অপমানিত পড়ুয়ার বক্তব্য, কর্তৃপক্ষের তরফে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরতে বলা হয়েছিল। আমি একটি সাদা স্যুট পরেছিলাম। সঙ্গে সাদা ওড়না। কিন্তু, আধিকারিকরা ওই পোশাককে যথার্থ মনে করেননি। অনুষ্ঠান শেষের পর বাড়ি গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন সারা। তাতে আধিকারিকের আচরণে অপমানিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। ওই ছাত্রী বলেন, সকলের সামনে আমার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন ওই আধিকারিক। এতে আমি অত্যন্ত বিরক্ত ও লজ্জিত হয়েছি। সারার দাবি, ওই অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আমার অনেক কিছু বলার ছিল। কিন্তু, কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও আমার পোশাকই সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ