সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: রথযাত্রা বাঙালির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। জগন্নাথদেবের রথের দড়িতে টান দেওয়ার পাশাপাশি কৃষ্ণনগরবাসীর কাছে এই দিনটি বিশেষ দিন। কারণ, রথযাত্রার এই পুণ্যলগ্নেই কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি। ফলে একদিকে রথযাত্রার আনন্দ উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে জগদ্ধাত্রী পুজোর আগমনী বার্তা। এই দুই উৎসবের যুগল আবহে মেতে উঠে গোটা শহর।
বৃহস্পতিবার রথযাত্রার শুভক্ষণে কৃষ্ণনগরের রাধানগর নতুন বারোয়ারি, নাজিরাপাড়া বারোয়ারি, আমিনবাজার বারোয়ারি, ঘূর্ণি নবারুণ সংঘ, বিবিএস বারোয়ারি, এমজি রোড় বারোয়ারি, ঘূর্ণি প্যাট্রিয়ট ক্লাব সহ একাধিক পুজো কমিটি পূজা-অর্চনা এবং নিয়ম মেনে কাঠামো পুজোর মাধ্যমে জগদ্ধাত্রী পুজোর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করে।
প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়েই মৃৎশিল্পীরা মূর্তি তৈরির কাজে হাত লাগান। কাঠামো পুজো মূলত দেবীর আগমনের পূর্বাভাস হিসাবেই ধরা হয়। শুধু রাজ্য নয়, বিশ্বজুড়ে কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজোর খ্যাতি রয়েছে। সাবেকিয়ানা মূর্তি, চোখ জুড়ানো পুতুল মূর্তি, প্রতিযোগিতার বৈচিত্র্য, আলোকসজ্জা, থিমভিত্তিক প্যান্ডেল, মঙ্গলঘট বিসর্জনের শোভাযাত্রা, সাং প্রথা সব মিলিয়ে এই পুজো মহোৎসবের রূপ নেয়। প্রতি বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থী এই জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে কৃষ্ণনগরে ভিড় জমান। শুধু এরাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও বহু মানুষ এই উৎসবের সাক্ষী হতে আসেন।
নাজিরাপাড়া বারোয়ারির সম্পাদক তন্ময় হালদার বলেন, প্রতিবছরের মত এ বছরও রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে কাঠামো পুজোর মাধ্যমে মায়ের আগমনের শুভ সূচনা হল। এবছর আমাদের পূজো ১৪৮তম বছরে পদার্পণ করবে।
রাধানগর নতুন বারোয়ারি কমিটির সদস্য চিরঞ্জিত সরকার বলেন, এবছর আমরা ৬৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছি। ইতিমধ্যেই রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে কৃষ্ণমাতা মায়ের কাঠামো পুজো সম্পন্ন হয়েছে। আজ থেকেই মূলত আমাদের জগদ্ধাত্রী পুজোর আরাধনা শুরু হল।
ঘূর্ণি নবারুণ সংঘের সেক্রেটারি রানা দত্ত বলেন, ঐতিহ্য ও পরম্পরা বজায় রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও রথযাত্রার পুণ্যদিনে কাঠামো পুজো সম্পন্ন হয়েছে। এবছর আমরা ৪৯তম বছরে পদার্পণ করলাম। বিভিন্ন সামাজিক কাজের মধ্যে দিয়ে রথের দিন আমাদের জগদ্ধাত্রী মহোৎসবের শুভ সূচনা হল।
বেশিরভাগ মৃৎশিল্পী বলেন, এই দিনটা আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কাঠামো পুজো মানেই মূর্তি গড়ার অনুমতি পাওয়া। এরপর থেকে শুরু হবে খড় বাঁধা, মাটির কাজ, রং, সাজসজ্জা। অনেকটা সময় হাতে আছে, আমরা ধীরে ধীরে কাজটি করতে পারব।
রথযাত্রার উদ্দীপনা ও জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি এখন শহরে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে। এই দুই উৎসব কৃষ্ণনগরবাসীর কাছে শুধু আচার নয়, আবেগও বটে।