সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে তিন নম্বর টোটো স্ট্যান্ডে প্রজাতন্ত্র দিবসের জাতীয় পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে আরপিএফের সঙ্গে টোটো চালকদের বচসা রবিবার সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। টোটো চালকদের অভিযোগ, নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের বাইরে তিন নম্বর টোটো স্ট্যান্ডে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা তোলা হয়। কিন্তু এক আরপিএফ আধিকারিক ওই টোটো স্ট্যান্ড থেকে সমস্ত টোটো সরিয়ে নিতে বলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টোটো চালকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বেশ কিছু সময় ধরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। তবে ওই আরপিএফ আধিকারিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নির্দেশে রেলের জায়গার মধ্যে যেসব টোটো স্ট্যান্ড, অস্থায়ী দোকান আছে সেগুলোকে সরিয়ে ফেলতে হবে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ব্যাপারে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যত্রতত্র রাস্তার উপর টোটো রাখার ফলে ট্রেনের প্যাসেঞ্জারদের যাতায়াত সমস্যা হচ্ছে। ওঁরা স্ট্যান্ডে টোটো রাখুন। এই কারণেই ওই টোটো চালকদের রাস্তার উপর থেকে টোটোগুলি সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। নবদ্বীপ ধাম স্টেশন তিন নম্বর টোটো ইউনিয়নের সম্পাদক পাপ্পু তাঁতি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও আমরা ওই স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা তুলেছি। কিন্তু পতাকা উত্তোলনের পর আরপিএফের এক আধিকারিক এসে বলেন, এটা টোটো স্ট্যান্ড নয়। এগুলো করা চলবে না। এখানে পতাকা তুলতে কে বলেছে। আগামী দিন এখানে পতাকা তোলা যাবে না বলে হুমকিও দেন। আমাদের এখান থেকে টোটো সরিয়ে নিতে বলছেন। আমরা শ্রমিক মানুষ, টোটো চালিয়েই রোজগার করি। রেলের প্যাসেঞ্জারদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিই। চৈতন্য জন্মভূমি নবদ্বীপ ধামে সারা বছরই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন। তাঁরা অমাদের উপরই ভরসা করেন। নবদ্বীপ শহর আইএনটিটিইউসির সভাপতি ভানু সাহা বলেন, এখানে উন্নয়নের নামে যে উচ্ছেদ হলেও জিরো পার্সেন্টও উন্নয়ন হয়নি। ওরা কোন সরকারি অর্ডারের কপি, কী নির্দেশ আছে কিছুই দেখাচ্ছেন না। আমরাও চাইছি এখানে উন্নয়ন হোক। প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই দোকান তুলে দেব। টোটো স্ট্যান্ডও সরিয়ে দেব।



