কনিষ্ঠ সন্তানের জন্য সব স্নেহ, মমতা, আদর উজাড় করে দিয়ে থাকেন বাবা-মায়েরা। আর জ্যেষ্ঠ সন্তানের জন্য বরাদ্দ কেবলই উপেক্ষা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই অভিযোগ করে থাকেন বাড়ির বড়রা। তাঁদের সেই অভিযোগ লঘু হয়ে যায় পৌড়াষ্ঠমী ব্রতর কাছে। মায়ের প্রথম সন্তানকে বলা হয় ‘পৌড়া’ অর্থাৎ বড়। এই উৎসব কেবল বাড়ির বড় সন্তানের জন্য। দুই মেদিনীপুর সহ ওড়িশা লাগোয়া দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায় পৌড়াষ্টমী ব্রত পালিত হয়। অগ্রহায়ণ মাসকে সুবর্ণরৈখিক ভাষায় বলে আঘ্রাণ। এই মাসে রাস পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে গ্রামের মায়েরা এই লোকাচার পালন করে থাকেন।
Advertisement
মায়েরা স্নান সেরে উপবাসে থেকে এই ব্রত পালন করেন। আর বড় সন্তানকে কাঁচা হলুদ বাটা মেখে স্নান করতে হয়। তবে যাঁদের প্রথম সন্তানের অকাল বিয়োগ ঘটে তাঁরা এই ব্রত পালনের সুযোগ পান না। আর এখনকার এক-দুই সন্তানের যুগে এই ব্রত পালন করেন মায়েরাই। দুধ, মিষ্টি, ফলমূল ও অন্যান্য নৈবেদ্যর সঙ্গে কলাই অর্থাৎ বিউলির ডালের বড়ি লাগে।
পুজোর উপকরণও বিচিত্র। তুলসীতলা সেজে ওঠে নানা আঙ্গিকে। মায়েরা তুলসী মঞ্চের সামনে তাঁদের গৃহ দেবতাকে সাক্ষী রেখে ধূপ, প্রদীপ, শঙ্খধ্বনিতে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। পুজোর পর মা সন্তানকে মালা, ঘুমসি, নতুন পোশাক পরিয়ে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ করান। বহু যুগ ধরে গ্রামে গ্রামে এই লৌকিক উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই ব্রত পালনে তুলসী মঞ্চের স্থান গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চ ধুয়ে তাতে হলুদের পাতা বিছিয়ে দিতে হয়। এরপর সেই পাতায় গোবর দিয়ে বানানো হয় গোবর্ধন ঠাকুর। এরপর সেই ঠাকুরের গায়ে ধানের শিষ, দুর্বাঘাস, মূলোর চারা রোপন করা হয়। তাছাড়া ছড়ানো হয় কুলের পাতা। এই ব্রতপালনের আগে মায়েরা বিউলির ডাল, খশলা শাক ও মূলো খান না। এই ব্রত পালন পরোপুরি লোকজ। যুগ যুগ ধরে প্রথম সন্তানের মঙ্গল কামনা করে নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে মায়েরা এই ব্রত পালন করে আসছেন।
পুজোর উপকরণও বিচিত্র। তুলসীতলা সেজে ওঠে নানা আঙ্গিকে। মায়েরা তুলসী মঞ্চের সামনে তাঁদের গৃহ দেবতাকে সাক্ষী রেখে ধূপ, প্রদীপ, শঙ্খধ্বনিতে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। পুজোর পর মা সন্তানকে মালা, ঘুমসি, নতুন পোশাক পরিয়ে কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ করান। বহু যুগ ধরে গ্রামে গ্রামে এই লৌকিক উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই ব্রত পালনে তুলসী মঞ্চের স্থান গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চ ধুয়ে তাতে হলুদের পাতা বিছিয়ে দিতে হয়। এরপর সেই পাতায় গোবর দিয়ে বানানো হয় গোবর্ধন ঠাকুর। এরপর সেই ঠাকুরের গায়ে ধানের শিষ, দুর্বাঘাস, মূলোর চারা রোপন করা হয়। তাছাড়া ছড়ানো হয় কুলের পাতা। এই ব্রতপালনের আগে মায়েরা বিউলির ডাল, খশলা শাক ও মূলো খান না। এই ব্রত পালন পরোপুরি লোকজ। যুগ যুগ ধরে প্রথম সন্তানের মঙ্গল কামনা করে নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে মায়েরা এই ব্রত পালন করে আসছেন।



