‘তুষ-তুষলি তুমি কে?
Advertisement
তোমার পূজা করে যে
ধনে ধানে বাড়ন্ত
সুখে থাকে আদি-অন্ত’
ধনে ধানে বাড়ন্ত
সুখে থাকে আদি-অন্ত’
অবিভক্ত বাংলার কৃষিভিত্তিক জনজীবনে খুশির জোয়ার আসে অগ্রহায়ণ-পৌষে। এ সময় মাঠ থেকে উঠে আসে পাকা ফসল। কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠে সোনাবরণ ধানে। আনন্দ উপচে পড়ে ঘরে ঘরে। উৎসব জেগে ওঠে মনে। এই সময়ের লৌকিক উদযাপনে মিশে থাকে উর্বরতার কামনা আর কৃষিকাজের নানা অনুসঙ্গ। অগ্রহায়ণ মাস থেকেই বহু কৃষকের ঘরে চলে লক্ষ্মী আরাধনার তোড়জোড়। পরিবারের সবার সুখ ও সমৃদ্ধির আশায় নানা ব্রত পালন করেন মহিলারা। পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ, দু’জায়গাতেই পৌষ মাসজুড়ে মহিলারা পালন করেন তুষ-তুষলি ব্রত। স্থানভেদে একে অনেকে ‘তোষলা ব্রত’ও বলেন।
কীভাবে পালিত হয় লৌকিক এই ব্রত? মুখে মুখে বেঁচে থাকা গানে তার কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়—‘গাইয়ের গোবর, সরষের ফুল/ আসনপিঁড়ি, এলোচুল/ওই করে পূজি মা-বাপের কূল...।’ নতুন সরায় বেগুনপাতা চাপা দিয়ে তাতে সারমাটি, মুলোর ফুল, সিমের ফুল, সর্ষের ফুল দিয়ে সাজানো হয়। দেওয়া হয় হলুদ ও সিঁদুর। তারপর মেয়েরা এলোচুলে হেঁটে যায় কৃষিজমির দিকে। গোটা পৌষমাসজুড়ে সকালে পালিত হয় এই ব্রত। পৌষ সংক্রান্তির দিন মেয়েরা সূর্যোদয়ের আগে ব্রত শেষ করে একটি মাটির সরায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে তোষলা বা তুষ-তুষলি ভাসাতে যায় নদীতে। সেখান থেকে ফিরে এসে শুরু হয় পিঠে বানানো।
এই ব্রতর সঙ্গে রাঢ় বাংলা ও মানভূম অঞ্চলের টুসু পরবের বেশ কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। টুসুর ব্রতও একইভাবে পৌষমাসজুড়ে পালন হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে হয় টুসু বিসর্জন। তবে রয়েছে পার্থক্যও। টুসুর মূর্তি থাকলেও তোষলা ব্রতে কোনও মূর্তির প্রচলন নেই। দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদের কৃষিজীবী পরিবারগুলিতে আজও পালিত হয় তুষ-তুষলি।
গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে রয়েছে এমন হাজারও লৌকিক আচার, ব্রতকথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসবের কোনও উল্লেখ নেই ধর্মীয় গ্রন্থ বা শাস্ত্রে। জীবনের সহজ ও স্বাভাবিক ছন্দ থেকেই উৎসারিত এগুলি। তাই তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সময়ে দাঁড়িয়েও ব্রতগুলি আমাদের শিকড়ের টান, মাটির গন্ধ মনে করিয়ে দেয়।
কীভাবে পালিত হয় লৌকিক এই ব্রত? মুখে মুখে বেঁচে থাকা গানে তার কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়—‘গাইয়ের গোবর, সরষের ফুল/ আসনপিঁড়ি, এলোচুল/ওই করে পূজি মা-বাপের কূল...।’ নতুন সরায় বেগুনপাতা চাপা দিয়ে তাতে সারমাটি, মুলোর ফুল, সিমের ফুল, সর্ষের ফুল দিয়ে সাজানো হয়। দেওয়া হয় হলুদ ও সিঁদুর। তারপর মেয়েরা এলোচুলে হেঁটে যায় কৃষিজমির দিকে। গোটা পৌষমাসজুড়ে সকালে পালিত হয় এই ব্রত। পৌষ সংক্রান্তির দিন মেয়েরা সূর্যোদয়ের আগে ব্রত শেষ করে একটি মাটির সরায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে তোষলা বা তুষ-তুষলি ভাসাতে যায় নদীতে। সেখান থেকে ফিরে এসে শুরু হয় পিঠে বানানো।
এই ব্রতর সঙ্গে রাঢ় বাংলা ও মানভূম অঞ্চলের টুসু পরবের বেশ কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। টুসুর ব্রতও একইভাবে পৌষমাসজুড়ে পালন হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে হয় টুসু বিসর্জন। তবে রয়েছে পার্থক্যও। টুসুর মূর্তি থাকলেও তোষলা ব্রতে কোনও মূর্তির প্রচলন নেই। দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদের কৃষিজীবী পরিবারগুলিতে আজও পালিত হয় তুষ-তুষলি।
গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে রয়েছে এমন হাজারও লৌকিক আচার, ব্রতকথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসবের কোনও উল্লেখ নেই ধর্মীয় গ্রন্থ বা শাস্ত্রে। জীবনের সহজ ও স্বাভাবিক ছন্দ থেকেই উৎসারিত এগুলি। তাই তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সময়ে দাঁড়িয়েও ব্রতগুলি আমাদের শিকড়ের টান, মাটির গন্ধ মনে করিয়ে দেয়।



