Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতারণার নয়া কৌশল, ফোনে কথার ফাঁকে ‘মহিলা এসকর্ট’ দেওয়ার টোপ

প্রতারণার নয়া কৌশল, ফোনে কথার ফাঁকে ‘মহিলা এসকর্ট’ দেওয়ার টোপ
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে বিভিন্ন বয়সের পুরুষকে প্রথমে ফোন করে আলাপ জমাত কিছু তরুণী। এরপর কথোপকথনের ফাঁকে সুযোগ বুঝে ‘মহিলা এসকর্ট’ চাই কি না, জানতে চাইত ফোনের অপর প্রান্তে থাকা তরুণীটি। ওই টোপ গিললেই পকেট ফাঁকা। আর্থিক প্রতারণার জাল জাপটে ধরবে তাঁকে। এমনই এক প্রতারিত হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ করায় তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা বিভিন্ন বয়সের ছয় তরুণী সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কশাল কোর্টের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শহরে বেআইনি কলসেন্টার খুলে মহিলাদের দিয়ে ফোন করানো হয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে। এমন অসংখ্য কলসেন্টার রয়েছে এই শহরে। কেউ টেক-সাপোর্টের গল্প ফাঁদে, কেউ আবার অনলাইন শপিংয়ের কথা বলে, কেউ কেউ আবার বিমা সংস্থার নাম করেও ফোন করে সাধারণ মানুষকে। এই তালিকাতেই যুক্ত হয়েছে এসকর্টের টোপ। রোমান্টিক গলায় ফোন করে ওই চক্রের মহিলারা আলাপ জমিয়ে ‘এসকর্ট সার্ভিস’-এর প্রস্তাব দিত। কেউ ওই প্রস্তাবে মজে গেলে তারা একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা করতে বলত। এভাবে বিভিন্ন লোকের টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। 
Advertisement
এদিন সরকারি আইনজীবী রাধানাথ রং বলেন, পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পিছনে একটি বড়সড় অপরাধ চক্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যদের খু্ঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। পুলিস তদন্ত করছে। এই অবস্থায় ধৃতরা জামিন পেলে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই ঘটনায় সাতজন গ্রেপ্তার হলেও ওই কলসেন্টারের মাথাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। এদিন সরকারি আইনজীবী আদালতে বলেন, ধৃতদের পুলিস হেফাজতে নিতে পারলে চক্রের মূল মাথাকে সহজে খুঁজে বের করা সম্ভব। এই অপরাধের শিকড় অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। পুলিস ধৃতদের কাছ থেকে যে সমস্ত ফোন ও সিমকার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে অপরাধের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন আদালতে ওই ছয় তরুণী দাবি করেন, তাঁরা এই ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাঁরা সাধারণ ঘরের মানুষ। পুলিস সন্দেহের বশে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের কাছে তাঁদের আর্জি, তাঁরা বাড়ি না ফিরলে নানা সমস্যার মধ্যে তাঁদের পড়তে হবে। বিচারক ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁদের আর্জি নাকচ করে দেন।
সম্পর্কিত সংবাদ