নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির লোক জানতেন, অন্যান্য দিনের মতো এদিনও দুই বন্ধু ময়দানে মর্নিংওয়াকে গিয়েছে। কিন্তু রবিববার সকালে আদৌ তাঁরা সেখানে যাননি। তার বদলে দুই বন্ধু তখন সকালবেলার ফাঁকা ফাঁকা মা ফ্লাইওভারে ‘জয়রাইড’-এ করছিলেন। আর তাতেই বেঘোরে চলে গেল ১৮ ও ১৯ বছরের দু’টি তাজা প্রাণ।
Advertisement
বউবাজারের ফিয়ার্স লেনের বাসিন্দা অনীশ রানা ও দানিশ আলমের বাড়ির লোকজনের দাবি, দু’জন হঠাৎ মা ফ্লাইওভারে কেন গেলেন, তা তাঁদের জানা নেই। পুলিসের দাবি, ময়দানে প্রাতর্ভ্রমণে গেলে তাঁদের মা ফ্লাইওভারে ওঠার কোনও প্রয়োজন পড়ে না। বউবাজার থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ধর্মতলা হয়ে ময়দান চত্বরে পৌঁছনো যায় সবচেয়ে সহজে। অথচ এই দুই তরুণ এদিন সেই পথে যাননি। পুলিসের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, দু’জন নিউটাউনের দিকে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় চিংড়িঘাটা হয়ে মা ফ্লাইওভারে ওঠেন তাঁরা। নিউটাউন থেকে বউবাজারে ফেরার জন্যও মা ফ্লাইওভারে ওঠার কোনও দরকার পড়ে না। বাইপাস থেকে বেলেঘাটা মেইন রোড কিংবা ক্যানাল ওয়েস্ট রোড ধরে শিয়ালদহ হয়ে সহজেই পৌঁছনো যায় বউবাজার চত্বরে। কিন্তু নিউটাউন থেকে ফেরার পথে সেই পথও ধরেননি দুই যুবক। এই অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে লাল রংয়ের স্পোর্টস বাইকটির যাত্রাপথ খতিয়ে দেখে পুলিসের অনুমান, সকালের মা উড়ালপুলে বাইকে জয়রাইডই ছিল তাঁদের মুখ্য উদ্দেশ্য। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মা ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে আর-১৫ বাইকটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বুঝতে পেরে প্যানিক ব্রেকও কষেন বাইকচালক দানিশ। মা ফ্লাইওভারের উপর বাইকের চাকার সেই ‘মার্ক’ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। সাইড রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে পাঁচতলা সমান উঁচু উড়ালপুল থেকে সোজা নীচে পড়ে যান দানিশ ও অনীশ।
এই ঘটনার পর পরমা আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক বিভাগের উচ্চপদস্থ দুই আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। তারপরই ফ্লাইওভারের প্রতিটি বাঁকে সাইড রেলিং ব্যারিয়ার বসানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে পুলিস। ইতিমধ্যে এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভার ও মা ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলে দু’টি বাঁকে বসানো হয়েছে এই ব্যারিয়ার। পরমা আইল্যান্ডের উপরেও একই ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে পুলিস। আজ, সোমবার কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠাবে কলকাতা পুলিস। সূত্রের খবর, ব্যারিয়ার বসালে ব্রিজের ভার বাড়বে। সেক্ষেত্রে উড়ালপুলের ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর পরমা আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক বিভাগের উচ্চপদস্থ দুই আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। তারপরই ফ্লাইওভারের প্রতিটি বাঁকে সাইড রেলিং ব্যারিয়ার বসানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে পুলিস। ইতিমধ্যে এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভার ও মা ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলে দু’টি বাঁকে বসানো হয়েছে এই ব্যারিয়ার। পরমা আইল্যান্ডের উপরেও একই ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে পুলিস। আজ, সোমবার কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠাবে কলকাতা পুলিস। সূত্রের খবর, ব্যারিয়ার বসালে ব্রিজের ভার বাড়বে। সেক্ষেত্রে উড়ালপুলের ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



