Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

প্রতুলের শিক্ষক ‘প্রকৃতি’

প্রতুলের শিক্ষক ‘প্রকৃতি’
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
‘গান শেখার ৮০ শতাংশই হল শোনা। মন দিয়ে শুনলে তবেই গান গলায় তোলা যাবে।’ এক সাক্ষাৎকারে কথাটি বলেছিলেন বড়ে গুলাম আলি। আজীবন সেই কথাটাই বিশ্বাস করেছেন সদ্যপ্রয়াত গায়ক প্রতুল মুখোপাধ্যায়। গানের প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছিল না তাঁর। বরং শিক্ষা নিতেন প্রকৃতি থেকে। শৈশব থেকেই গানের চর্চা ছিল। স্কুলে যে কোনও অনুষ্ঠানে ডাক পড়ত গান করার জন্য। মূলত সেই সময় নাটকের প্রয়োজনে যে সমস্ত গান ব্যবহৃত হতো, তাতে কণ্ঠ দিতেন। সকলে প্রশংসাও করতেন। তবে সমস্যা হতো চেহারা নিয়ে। রোগা চেহারার জন্য শৈশবে নানা কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। একদিন দিদিকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছিল। এককোণে দাঁড়িয়েছিলেন খুদে প্রতুল। তাঁকে দেখে পাত্রপক্ষ জানতে চায়, ‘কী করে?’ বাড়ির লোকেরা উত্তর দেন, ‘স্কুলে পড়ে। ভালো গান করে।’ একটি গান শোনার অনুরোধ জানান পাত্রপক্ষ। গান শুনে তাঁরা বলেন, ‘ভালো। কিন্তু এই চেহারা নিয়ে কী হবে?’ ছোটবেলায় রোগা চেহারা নিয়ে এই ধরনের অনেক কথাই হজম করতে হয়েছিল তাঁকে। সেগুলি শুনে তিনি অবশ্য কখনও ভেঙে পড়েননি। বরং এই মন্তব্যগুলিই তাঁকে একভাবে সাহায্য করেছিল। কীভাবে? এক সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত এই গায়ক জানিয়েছিলেন, চেহারা নিয়ে এধরনের মন্তব্যের ফলে তিনি একটি স্বাধীন মন পেয়েছিলেন। উপলব্ধি করেছিলেন, এই চেহারা নিয়ে যখন কিছুই হবে না, তখন অত ভেবে কী হবে? কেরিয়ার নিয়ে অযথা চিন্তা না করে গানের মধ্যেই থাকতে পেরেছিলেন এই চেহারার কারণেই। গত সপ্তাহের শনিবার ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যু হয় শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ