উত্তর কলকাতার পরতে পরতে জড়িয়ে ইতিহাসের নানান অধ্যায়। শ্যামবাজার ট্রামডিপোর পিছনে কৃষ্ণরাম বসু স্ট্রিট। এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বাংলা নাট্যশালা। উদ্যোক্তা নবীনচন্দ্র বসু। যিনি ছিলেন দেওয়ান কৃষ্ণরাম বসুর পৌত্র। ১৮৩৩ সালে নিজের বাড়িতে তৈরি করেন রঙ্গমঞ্চ। বাংলা নাটকের প্রথম যুগে অভিনেত্রী জোগাড় করা খুব কঠিন ছিল। তখন নাটকের শো হতো হাতেগোনা। বছরে ৪-৫টি। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘দেশকাল/ দৃষ্টিপাত’ সংখ্যায় ‘থিয়েটারের শুরু’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৮৩৫ সালের ৬ অক্টোবর থেকে এই রঙ্গমঞ্চে ভারতচন্দ্রের ‘বিদ্যাসুন্দর’ নাটকটি অভিনীত হতে শুরু করে। প্রথম দিনের অভিনয়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ‘ক্যালকাটা ক্যুরিয়ার’-এ। এর আগে অবশ্য ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কলকাতায় তাঁর সাধের বাগানবাড়িতে হিন্দু থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ইংরেজি নাটক ‘জুলিয়াস সিজার’ এবং সংস্কৃত নাটক ‘উত্তররামচরিত’ মঞ্চস্থ হয়েছিল ওই বছরের ডিসেম্বরে। ফলে নবীনচন্দ্র বসুর শ্যামবাজারের বাড়িতে অভিনীত ‘বিদ্যাসুন্দর’কেই প্রথম যথার্থ বাংলা নাটকের মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। ‘বিদ্যাসুন্দর’ নাটকের অভিনেতারা বেশ জনপ্রিয় হন। সুন্দরের ভূমিকা অভিনয় করে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন শ্যামাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যার ভূমিকায় ষোড়শী রাধামণি, মালিনীর ভূমিকায় জয়দুর্গা, আর বিদ্যার সহচরীর ভূমিকায় রাজকুমারী অভিনয় করেন। বিনয় ঘোষ তাঁর ‘কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে লিখে গিয়েছেন, ‘বীরসিংহের দরবার হয় নবীনবাবুর বৈঠকখানায়। বকুলতলার পুষ্করিণীর দৃশ্য বাড়ীর উদ্যানের পুষ্করিণীর তীরে সাজানো হয়। এক পাশে মালিনীর কুটির। একস্থানে এক দৃশ্যের অভিনয় দেখে দর্শকরা অন্য স্থানে দৃশ্য দেখতে উঠে যেতেন।’



