নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বামীর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন উপপ্রধান সুরাইয়া পারভিন। ‘নির্দোষ’ যুবককে গ্রেপ্তার করে মূল ঘটনা ‘আড়াল’ করতে চাইছে পুলিস। প্রতিবেশী আতাউর মণ্ডলকে আমি পাঠিয়েছিলাম। ওকে বেঁহুশ করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে নাসারকে। মঙ্গলবার বললেন আমডাঙার আদহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুরাইয়া পারভিন। পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, আতাউরকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতেও দেওয়া হয়নি দীঘায়।
Advertisement
শনিবার ভোরে আমডাঙার তৃণমূল নেতা আবুল নাসারের দেহ উদ্ধার হয় মন্দারমণির একটি হোটেলে। রবিবার গভীর রাতে তার দেহ ময়নাতদন্ত করে বাড়িতে ফেরে। জমি বিবাদের জেরেই পরিকল্পনা মাফিক আবুলকে খুন করা হয় বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে পরিবার। মঙ্গলবার স্বামীর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন উপপ্রধান স্ত্রী সুরাইয়া পারভিন। তিনি বলেন, স্বামীর মদের নেশা ছিল না। নেশা বলতে সিগারেট। পুলিস মদ্যপানের আসরের যে দাবি করেছে, সেটা ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় ধৃত যুবক আতাউর মণ্ডল নিরীহ। ১৮ কোটি টাকায় সোদপুরে পাঁচ বিঘা জমি কিনেছিলেন স্বামী। সেটা নিয়েই বিবাদ চলছিল দুই কারবারির। ধৃত যুবতীকে ‘টোপ’ দিয়ে আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। এর পিছনে মূল চক্রী ধৃত তরুণীর মামা ও পণ্ডিত। ব্যবসায়িক স্বার্থে খুন করা হয়। সুরাইয়া আরও বলেন, আমি আতাউরকে স্বামীর সঙ্গে যেতে বলেছিলাম। আমার কথা মেনেই আতাউর গিয়েছিল। আতাউরকে বেঁহুশ করে অন্য ঘরে রাখা হয়। একাই ছিল স্বামী। আর স্বামীকেও বেহুঁশ করে সরিয়ে দিয়ে খুন করা হয়েছে। গোটা ঘটনা জানত আতাউর। তাই, ওকে গ্রেপ্তার করে আসল ঘটনা লুকোতে চাইছে পুলিস। তাছাড়া ওখানে আমরা আতাউরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন না ধরায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



