Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

প্রসূতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ফোন পেয়ে  এড়িয়ে গিয়েছিলেন সিনিয়র ডাক্তাররা

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছে, একথা জানিয়ে পরপর ফোন গিয়েছিল তিন সিনিয়র ডাক্তারের কাছে।

প্রসূতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ফোন পেয়ে  এড়িয়ে গিয়েছিলেন সিনিয়র ডাক্তাররা
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছে, একথা জানিয়ে পরপর ফোন গিয়েছিল তিন সিনিয়র ডাক্তারের কাছে। সকলেই ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দিয়েছিলেন। খানিক বাদে ফের ফোন করা হলে বলেন, অনেক দূরে আছি, আসা সম্ভব নয়। বিষয়টি পিজিটিদের দেখে নিতে বলেন তিনি। ঘটনার দিন হাসপাতালের ওটিতে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য হাতে পেয়েছে সিআইডি। প্রসূতির অপারেশন যে ভুল হয়েছিল, তাও তাঁরা জানিয়েছেন। সোমবার সিআইডির আধিকারিকরা নার্স ছাড়াও হাসপাতালের একাধিক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
Advertisement
সিআইডি তদন্তে জানা গিয়েছে, জুনিয়র ডাক্তাররা অপটু হাতে ওইদিন অপারেশন করছিলেন। তাঁদের গাইড করার মতো কোনও সিনিয়র ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিও কনফারেন্সে করার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তদন্তকারীরা জেনেছেন, তিন সিনিয়র ডাক্তার খাতায়কলমে ‘অন কল’ থাকলেও বাস্তবে তাঁদের কোনওদিনই পাওয়া যেত না। হাসপাতাল থেকে জুনিয়ররা বা অন্য কেউ ফোন করলে তাঁরা কল পর্যন্ত রিসিভ করতেন না। প্রসূতির মৃত্যুর দিনও একই ঘটনা ঘটিয়েছিল। ভুল অপারেশনের পর ওটি টেবিলেই প্রসূতির ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা রক্ত বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। পিজিটিরা রক্ত বন্ধ করতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ হয়নি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ফোন করা হয় সিনিয়র ডাক্তারদের। কিন্তু তাঁরা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, অন ডিউটিতে থাকা ডাক্তার কীভাবে জরুরি ফোন এড়িয়ে যেতে পারেন? সেকারণেই এফআইআরে নাম থাকা ডাক্তারদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ