সংবাদদাতা, বনগাঁ: প্রসূতি মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর বনগাঁ মহকুমা স্বাস্থ্যদপ্তরের। সেই টার্গেটের দিকে আরও এক ধাপ এগল হাসপাতাল। ২০২৪ সালে বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাত্র ৫ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, বনগাঁর বেশিরভাগ সঙ্কটজনক প্রসূতিকে এখানে রেফার করা হয়। ফলে অন্য হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যু ঘটে না বললেই চলে। অন্য রোগে আক্রান্তের ক্ষেত্রেও মৃত্যু হার কমেছে বলেই দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ২০২৫ সালে প্রসূতি মৃত্যু শূন্য করায় লক্ষ্য বনগাঁ মহকুমা স্বাস্থ্যদপ্তরের। সরকারি হাসপাতাল গুলিতে প্রসব পরবর্তী সময়ে মায়েদের উপর বিশেষ নজর থাকার কারণেই প্রসূতি মৃত্যু কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে বনগাঁ মহকুমায় মাত্র তিনজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটা মাত্র ৫ জন। এরমধ্যে দু’জন নাবালিকা রয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। মহকুমা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, মৃতেরা সকলেই সরকারি হাসপাতালে মারা গেলেও এরা কেউ সরাসরি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হননি। প্রথমে শহরের নার্সিংহোমে ভর্তি হন। সন্তান প্রসবের পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দেরি হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে বনগাঁ হাসপাতাল পরিষেবার দিক দিয়ে অনেকটাই উন্নত। প্রসূতি চিকিৎসায় যে কোনও সময় রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বনগাঁ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ব্লাড ব্যাঙ্ক পরিষেবা চালু। রয়েছে এইচডিইউ। নবজাতকদের জন্য রয়েছে এসএনসিইউ। সিটিস্ক্যান ও ডায়ালিসিস চালু হয়েছে বনগাঁ হাসপাতালে। প্রসূতি মৃত্যুর হার কমাতে বিশেষভাবে নজর দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। একই পথে হাঁটছে বনগাঁও।



