


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একাকী এক বৃদ্ধার বাড়ির সামনে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছিল ‘বড়দিনের পার্টি’। মদ্যপানের সঙ্গে চলছিল চটুল নাচ-গান। ঘুমোতে পারছিলেন না বৃদ্ধা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছিলেন, এভাবে বাড়ির সামনে হুল্লোড় করা চলবে না। তবে তিনি ভাবতে পারেননি, প্রতিবাদের এত বড় মাশুল দিতে হবে! অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা রড দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় আঘাত করে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। ২৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে কালীঘাট থানা এলাকার কালীঘাট রোডে। তিন অভিযুক্তকে শনিবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাট রোডের বাড়িতে ওই বৃদ্ধা একাই থাকেন। ২৫ ডিসেম্বর রাতে বাইরে থেকে আসা তীব্র শব্দ ও হইহুল্লোড়ে তাঁর ঘুম আসছিল না। তখন তিনি খেয়াল করেন, বাড়ির সামনে তিন যুবক রীতিমতো আসর বসিয়ে ফেলেছে। খানাপিনা, নাচগান চলছে। তখন ৬১ বছরের বৃদ্ধা বাইরে এসে বলেন, ‘এখানে এসব করা যাবে না। এখনই চলে যান।’ প্রথমে তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি অভিযুক্তরা। বৃদ্ধা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে ওই তিন যুবকের মধ্যে একজন একটি লোহার রড বের করে তাঁকে ভয় দেখায়। তাতেও বৃদ্ধা দমেননি। তিনি আরও জোরের সঙ্গে জানিয়ে দেন, ‘এটা পার্টি করার জায়গা নয়। এখানে পার্টি করা যাবে না’। তখন তিন যুবক তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বৃদ্ধাকে বাঁচাতে এসে স্থানীয় কয়েকজনও ওই মদ্যপদের হাতে আক্রান্ত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় বসে পড়েন বৃদ্ধা। ঘটনাস্থলে আসে কালীঘাট থানার পুলিশ। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর মাথায় আটটি সেলাই পড়ে। বৃদ্ধার অভিযোগে ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল সহ আরও কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। উদ্ধার হয়েছে লোহার রডটিও।
তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রাহুল পাসোয়ান, মোহিত পাসোয়ান ও ছোট্টু পাসোয়ান নামে তিন যুবক ওই রাতে বৃদ্ধার বাড়ির সামনে বসে মদ্যপান করছিল। তাদের বিরুদ্ধে আগেও এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে তিনজনকেই কালীঘাট এলাকা থেকে ধরা হয়। ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সবসময় লোহার রড থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয় দেখায়। রবিবার তিন ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবী মহম্মদ ফুরকান আনসারি বলেন, বৃদ্ধার আঘাত তেমন গুরুতর নয়। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বিরোধিতা করেন। সওয়াল শেষে বিচারক তিনজনকেই পুলিশ হেপাজতে পাঠান।