Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টাকা ফেরত চেয়ে কাউন্সিলারের বাড়িতে বিক্ষোভ, ‘ডিম থেরাপি’

বারাসতে তৃণমূল কাউন্সিলার দীপক দে'র বাড়িতে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ। স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ, ডিম থেরাপির ঘটনা। বিস্তারিত পড়ুন।

টাকা ফেরত চেয়ে কাউন্সিলারের  বাড়িতে বিক্ষোভ, ‘ডিম থেরাপি’
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে তাঁর মাথায় ডিম ছুড়লেন পাওনাদাররা। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরতের মুচলেকা লিখে দিতে হয় কাউন্সিলারকে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দীপক দে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রেসিডেন্সিয়াল, ওয়ারিশন সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন নথি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিতেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পুরসভার ড্রেন-সংক্রান্ত কাজেও বাসিন্দাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাননি অনেকেই। রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে দীপকের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ওঠে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি। অভিযোগ, বিক্ষোভের মধ্যেই কাউন্সিলারকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। ‘ডিম থেরাপি’ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেবেন বলে মুচলেকা দেন দীপক। বিজেপির স্থানীয় শক্তিপ্রমুখ সোমেন দাস রায়ের দাবি, চাপে পড়েই ওই কাউন্সিলার লিখিতভাবে টাকা ফেরতের মুচলেকা দিয়েছেন।

Advertisement

অন্যদিকে, বারাসত পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলার একটি গোডাউন ঘিরে বৃহস্পতিবার তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। খবর ছড়াতেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে গোডাউন হানা দিয়ে মিলেছে কয়েক হাজার ত্রিপল, চাল, শতাধিক কম্বলের বস্তা এবং সবুজসাথী প্রকল্পের কয়েক হাজার সাইকেল। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় বহু সামগ্রী নষ্ট হওয়ার মুখে।
এদিন গোডাউনের তালা খোলার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। পরে তাঁরা বারাসত পুরসভার দ্বারস্থ হন। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে খোলা হয় ওই গোডাউন। পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, যাঁদের প্রয়োজন, ওই ত্রাণসামগ্রী খুব শীঘ্রই তাঁদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালে এলাকায় পৌঁছায় বারাসত থানার বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আসে বিজেপি নেতৃত্ব। এনিয়ে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর ফেলে রেখে নষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী গোডাউনে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাব। কাউকেই ছাড়ব না।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ