


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য প্রশাসনে কর্মরত ডব্লুবিসিএস (এগজিকিউটিভ) অফিসাররা এখন থেকে অনেক আগেই মহকুমা শাসক (এসডিও) পর্যায়ে উন্নীত হবেন। মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। একইসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের ডব্লুবিসিএস-সহ মোট নয়টি ক্যাডারে বিভিন্ন বেতন কাঠামোয় ২০ শতাংশ পদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। এই ক্যাডারগুলির মধ্যে আছে শ্রম, সমবায়, খাদ্য, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, আইন, তথ্য ও সংস্কৃতি ও স্টেট সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস প্রভৃতি। অন্যান্য রাজ্য প্রশাসনিক সার্ভিস ক্যাডারেও ২০ শতাংশ হারে পদ বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই বিষয়টি কার্যকর করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন দপ্তরে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য প্রশাসনে বিভিন্ন ক্যাডার নতুন করে ঢেলে সাজার ফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরো মসৃণ হবে। তাড়াতাড়ি পদোন্নতি হবে প্রবীণ আধিকারিকদের।
এখন ডব্লুবিসিএস এগজিকিউটিভরা কাজে যোগ দেওয়ার পর প্রথমে দুবছর প্রবেশনে কাটিয়ে বিডিও পদে যোগ দেন। বিডিও হিসেবে দু-দফায় মোট বছর সাতেক দায়িত্বপালনের পর তবে এসডিও বা সমতুল পদে প্রোমোশন পান তাঁরা। এদিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবেশনের পর তিনবছর বিডিও পদে কাজ করলে এসডিও হবেন।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কাজে ইআরও পদে এসডিওদের নিযুক্ত করা নিয়ে সম্প্রতি জটিলতা তৈরি হয়। এসডিও বা সমতুল পদের আধিকারিকদের এই পদে নিযুক্ত করা হোক, কমিশন চাইছিল। কিন্তু অন্য রাজ্যের তুলনায় এরাজ্যে এসডিওর সংখ্যা কম। এই সমস্যার কথা তুলে ধরে রাজ্য প্রশাসন। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এদিন নেওয়া হয়েছে। যেমন—সরকারি আইটিআইগুলি সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে (পিপিপি মোডে) চালানো হবে। সরকারি আইটিআইতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রশিক্ষণ দেবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। এসএসকেএম হাসপাতালে একটি ‘বোন ব্যাংক’ তৈরি করা হবে। তিস্তা নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য কালিম্পং-১ ব্লকে ১.৫১ একর জমি জিটিএ’কে দেবে সরকার। কলকাতা পুলিশের ওয়াটগঞ্জ, একবালপুর ও আলিপুর থানার সীমানা আংশিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।