


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা ও হাওড়া: পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়, সেটি লুকিয়ে রাখাছিল বউবাজারের হরিণবাড়ি লেনে একটি জলের ট্যাঙ্কে। এই কাজে সহযোগিতা করেছিল হেপাজতে থাকা অভিযুক্ত মহম্মদ ওয়াকিল। তাকে জেরা করে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, দু’টি ম্যাগজিন। তদন্তকারীদের দাবি, এই দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ছাদে উঠে ট্যাঙ্কের মধ্যে রেখে আসে হারুন। তাকে এবং রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আসলাম নামে মেটিয়াবুরুজ এলাকার এক বাসিন্দাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানা। এদিন রাতভর পুলিশ জোড়াসাঁকো এলাকার এক প্রভাবশালী দুষ্কৃতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার কাছেও হারুন ও রোহিত গিয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
শফিক খুনের তদন্তে শনিবার সিআইডি টিম পিলখানায় তাঁর বাড়িতে যায়। পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দারা। এরপর থানায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন চার অভিযুক্তকে। তাদের নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে সিআইডি। ধৃত আসলামকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার সঙ্গে হারুনের যোগাযোগ অনেক দিনের। সে হারুনের প্রথম পক্ষের শ্যালক। ঘটনার পর হারুন প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে ফোন করে জানায়, পিলখানায় একটি ‘ছোটো ঘটনা’ ঘটেছে। পুলিশ তাকে ও তার এক সঙ্গীকে খুঁজছে। বিচালিঘাট এলাকায় তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর যে তালাবন্ধ ঘর রয়েছে, সেটি খুলে দিতে বলে। সে দু-একদিন সেখানেই থাকবে বলে জানায়। সেইমতো তার স্ত্রী ভাইকে ঘরটি খুলে দিতে বলে। আসলাম ঘর খুলে দেয়। হারুন ও রোহিতকে ‘রিসিভ’ করে নিয়ে আসে। সেখানে চার ঘণ্টা কাটিয়ে চলে যায়। দুই অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আসলামকে গ্রেপ্তার করে শনিবার হাওড়া আদালতে তোলা হয়। সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, ‘আসলামকে জেরা করে পলাতক দু’জনের খোঁজ পেতে হবে। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, হারুন মেটিবুরুজ, নাদিয়াল এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার ডেরা পালটে পালটে থেকেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এখান থেকেই অন্যত্র পালিয়েছে। হারুনের মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেঁটে দেখা যায়, বুধবার সকালে জোড়াসাঁকো এলাকার এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ওই দুষ্কৃতীকে এর আগে অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করেছিল লালবাজার। সে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা চালায়। ভিন রাজ্যেও যোগযোগ রয়েছে। এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। তাকে দীর্ঘ জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, হারুন ও রোহিত তার সঙ্গে দেখা করেছিল। তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিল। ওই দুষ্কৃতীর পিলখানায় যাতায়াত আছে। সেই সুবাদে তাদের পরিচয়। তাকে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। হেপাজতে থাকা তিন অভিযুক্তকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, খুনে ব্যবহৃত আর্মস নিয়ে এসেছিল হারুন ও রোহিত । ধৃত মহম্মদ ওয়াকিল জানায়, তার কথামতো এই দু’টি আর্মস হারুন রেখে আসে জলের ট্যাঙ্কে। তারপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র।