


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আফগান যুবক হারুনের পরিচিত ও পরিজন মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মোবাইল নম্বর এখন তদন্তকারীদের নজরে। হারুন কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, ওই ফোনের সূত্র ধরে তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা, হারুন রয়েছে এ রাজ্যেই। এসংক্রান্ত কিছু ‘ক্লু’ নাকি তাঁরা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন। তবে আরেক অভিযুক্ত রোহিত মুম্বইয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার খোঁজে মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছে পুলিশের টিম।
এক সপ্তাহ পার। পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খানকে প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত এখনও অধরা। হারুনের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তদন্তকারীদের। তার অবস্থান জানতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন তাঁরা। তার বিভিন্ন ডেরার তত্ত্বতালাশ চলছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট খুঁজে তার ঘনিষ্ঠদের তথ্য জোগাড়ের কাজ চলছে। ঘটনার পর সে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তার আত্মীয়, বন্ধু, পরিচিতদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। সন্দেহের তালিকায় রয়েছে প্রায় তিন হাজার ফোন নম্বর। জানা গিয়েছে, পালানোর আগে এই তালিকায় থাকা কয়েকটি নম্বরে ফোন করেছিল হারুন। একাধিকবার কথা হয়েছে তাদের সঙ্গে। সন্দেহজনকদের মধ্যে পিলখানা, ওড়িয়াপাড়ার লোকজন যেমন রয়েছে, তেমনই মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাগান, গার্ডেনরিচ, নাদিয়ালের কয়েকজন বাসিন্দাও রয়েছে। এই ব্যক্তিদের ভিন রাজ্যেও বাড়ি রয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের পর প্রথম দু’দিন হারুন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করলেও এখন তাকে আর অনলাইন দেখাচ্ছে না। তদন্তকারীদের ধারণা, পুলিশি ধরপাকড় এড়াতে সে সাধারণ কলের বদলে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা বলছে বা যোগাযোগ রাখছে। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে তার একাধিক প্রোফাইল রয়েছে। সেগুলিতেও নজরদারি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এমনকি, সে নতুন হ্যান্ডসেট ও সিম ব্যবহার করতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ জেনেছে, হারুন রাজ্যের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করছে। সেকারণে কয়েকটি জেলায় খোঁজখবর চলছে। তবে রাফাকাত ওরফে রোহিত যে মুম্বইয়ে ঘাঁটি গেড়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ে তার এক আত্মীয় রয়েছে। ঘটনার পর রোহিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তির টাওয়ার লোকেশন রয়েছে মুম্বইয়ে। তার ভিত্তিতেই রোহিতের খোঁজে মুম্বই গিয়েছে পুলিশের টিম।