কার্লেস কুয়াদ্রাত: ব্ল্যাক কফি বরাবরের প্রিয়। মুহূর্তে নার্ভ চাঙ্গা করে দেয়। রবিবার টেনশন কাটাতে ফ্লাস্ক ভরতি কড়া কফিই ছিল ভরসা। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে মিলল স্বস্তি। শেষ বাঁশি বাজতেই ড্রয়িং-রুম থেকে লাফিয়ে ব্যালকনিতে চলে আসি। রাজপথ ততক্ষণে জনতার দখলে। মায়াবী সেলিব্রেশন দেখতে দেখতে ঘোর লেগে যায়। এটাই তো স্বাভাবিক। গত দু’দশক বিশ্ব ফুটবল কার্যত শাসন করেছে স্প্যানিশ আর্মাডা। এই সময়কালে দুটো বিশ্বকাপ (২০১০, ২০২৬) ও তিনটি ইউরো (২০০৮, ২০১২, ২০২৪) জেতে লা রোহা ব্রিগেড। ট্রফি ক্যাবিনেটে কয়েক ক্যারেটের হিরে। নিখুঁত পরিকল্পনা ও সিস্টেম ছাড়া এত সাফল্য পাওয়া অসম্ভব। একটা সময় লুই আরাগোনাসের সাজানো বাগানে ফুল ফুটিয়েছিলেন ডেল বস্কি। এবার লুই এনরিকের মজবুত ভিতে প্রাসাদ বানালেন প্রফেসর ডে লা ফুয়েন্তে।
১৯৬৪ সালে স্পেনের প্রথম ইউরো জয়। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। এমিলিও বুত্রাগুয়েনো ছাড়া মাঝের দিনগুলিতে স্প্যানিশ ফুটবল নিয়ে সেভাবে আলোচনাও হয়নি। ২০০৪ সালের ইউরোতে গ্রুপ লিগের বাধা টপকাতে ব্যর্থ লা রোহা। দেশজুড়ে আপশোস, ক্ষোভ, হাহাকার। এমন মঞ্চেই কোচের ব্যাটন লুইস আরাগোনাসের হাতে। ‘তিকি-তাকা’ নামক জাদুকাঠি হাতে হটসিটে বসলেন অভিজ্ঞ কোচ। সালগাডো, রাউলের মতো ফুটবলারকে সরিয়ে নতুন স্কোয়াড গড়লেন আরাগোনাস। অদ্ভুত সংস্কার ছিল ভদ্রলোকের। ক্যাটক্যাটে হলুদ না পসন্দ। তাই জার্সির রঙেও ফাইন টিউন করা হল। যাই হোক, সেই দলই চার বছর পরে ইউরো সেরা। ইনিয়েস্তা, জাভি, ফাব্রেগাস, ক্যাপডেভিয়ারা বশ মানাল দুরন্ত জার্মানিকে। ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখুন। গোটা ম্যাচে স্পেনের গোলমুখী শটের সংখ্যা ১৩। জার্মানির মাত্র ৪। আমরা বুঝেছিলাম, স্প্যানিশ ফুটবলে বদল আসছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেল বস্কিও ফসল তুললেন তিকি-তাকার। ছোটো ছোটো পাস। বিপক্ষকে ধীরে ধীরে গিলে ফেলার কৌশল। ইউরো জয়ের দু’বছরের মধ্যে প্রথমবারের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন (২০১০)। পাসিং ফুটবলের জয়গান গোটা বিশ্বে। এখানেই শেষ নয়। ২০১২’র ইউরো ফের স্পেনের দখলে। জর্ডি আলবা, তোরেসরা ফাইনালে ৪ গোলে হারায় ইতালিকে।
পারফরম্যান্স গ্রাফে ওঠানামা থাকেই। স্প্যানিশ ফুটবলও তার ব্যতিক্রম নয়। লুইস এনরিকের জমানায় স্পার্ক থাকলেও সাফল্য আসেনি। ব্যক্তিগত শোক সামলে চেষ্টা করেছিল এনরিকে। কিন্তু ট্রফি ভাগ্য ছিল না বেচারার। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুয়েন্তের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এনরিকে জমি তৈরিই রেখেছিলেন। তাতে সোনা ফলালেন কোচিং জগতের প্রফেসর। বয়সভিত্তিক দল গুলে খেয়েছেন তিনি। রড্রি, পেড্রি, ওলমো, ইয়ামালদের চেনেন হাতের রেখার মতো। কোচেদের কোচ তিনি। একটা সময় ক্লাস করিয়েছেন স্কালোনিকেও। এবারের মেগা ফাইনালে সেই গুরুর কাছেই বশ মানল গতবারের বিজয়ী ছাত্র।