নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রোমোটার সংস্থাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে অবিক্রিত তিনটি ফ্ল্যাটের দলিল জাল করে ব্যাঙ্ক থেকে লক্ষাধিক টাকা লোন নিলেন এক মহিলা। বেআইনি এই ঘটনার তদন্তে নেমে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিস সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক সাত ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই চক্রে জড়িত বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতের হেফাজত থেকে উদ্ধার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র। পুলিস সেসব খতিয়ে দেখছে।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির বিষয়টি সম্প্রতি ব্যাঙ্কের নজরে আসে। তারা খোঁজখবর করার পর জানতে পারে, ফ্ল্যাটের লোন পেতে অসাধু একটি চক্র জাল নথিপত্র জমা দিয়েছে। এরপর পুলিসে অভিযোগ জানায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পুলিস প্রতারণা, জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে। তদন্তে উঠে আসে, ফ্ল্যাটের যে দলিল ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়, তাতে স্বাক্ষর রয়েছে অভিযুক্ত মহিলার। পুলিস অভিযুক্তকে জেরা করার পর জালিয়াতির প্রমাণ পায়। তারপর গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, এই আর্থিক প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বড়সড় একটি চক্র। এদিন আদালতে মামলা শুনানির জন্য উঠলে সরকারি কৌঁসুলি রাধানাথ রং ধৃতের জামিনের জোরালো আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ধৃতের হেফাজত থেকে যে নথি মিলেছে, তা খতিয়ে দেখা হলে হয়ত এই প্রতারণার অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাই জামিন দিলে মামলার তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধৃতের আইনজীবীদের অবশ্য দাবি, মক্কেল এই ঘটনার শিকার। তিনি প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত নন। তাই যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ধৃতের জামিনের আর্জি নাকচ করে দেন।



