নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। এমনকি, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন রুম। অথচ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মসূচির জন্য নোটিস দিচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষ স্বয়ং! সেই অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন কলেজ শিক্ষকরাও। বিরাটির মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
যদিও কলেজ অধ্যক্ষ দীপক বিশ্বাস বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এই কর্মসূচির কথা সকলকে জানিয়েছি। এতে যোগ দেওয়া বা না-দেওয়া অবশ্য ঐচ্ছিক। আমি নিজেও যোগ দিইনি। এনসিসি বিভাগের কেউ যোগ দিতে পারেন। এনিয়ে অহেতুক বিতর্কের জায়গা নেই।
উত্তর শহরতলির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষায়তন হল বিরাটির মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ। সেখানে এবিভিপির এক কর্মসূচি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নোটিসকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে কলেজে এবিভিপির উদ্যোগে ‘মিশন সাহসী’ নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। তাতে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে গত শুক্রবার কলেজের অধ্যক্ষ দীপক বিশ্বাস কলেজের প্যাডে একটি নোটিস ইস্যু করেন। তাতে বলা হয়, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কলেজ ক্যাম্পাসে ‘মিশন কারেজ’ নামের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেখানে মূলত ছাত্রীদের আত্মসুরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কলেজের সমস্ত এনসিসি ক্যাডেট, এনএসএসের স্বেচ্ছাসেবক, আগ্রহী ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের এই উদ্যোগে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সোমবার কলেজেই অনুষ্ঠানটি হয়। সূত্রের খবর, কলেজের কয়েকটি বিভাগের অধ্যাপকরাও তাতে যোগ দেন। এনিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এসএফআইয়ের জেলা সভাপতি দীপ্তজিৎ দাস বলেন, একটি ছাত্র সংগঠনের নিজস্ব কর্মসূচি সরকারিভাবে প্রচার করছেন কলেজের অধ্যক্ষ! এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য ঘটনা। সারা দেশের মতো এরাজ্যেও শিক্ষায় গৈরিকীকরণের পাশাপাশি সরকারি মদতে ক্যাম্পাসের দখলও নিতে চাইছে বিজেপি এবং আরএসএস। ওই অধ্যক্ষ ‘ভালো তৃণমূল’ সাজতে চাইছেন কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এই ধরনের বেআইনি, নীতিহীন, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।
অন্যদিকে, এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, একমাত্র এবিভিপি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বাকি সব ছাত্র সংগঠন কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত। ছাত্রীদের আত্মসুরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচিটিও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কথা নোটিস দিয়ে জানালে বিতর্কের জায়গা কোথায়? আসলে বামপন্থীরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে
ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। তাই বিতর্ক তৈরি করে ভেসে থাকার মরিয়া চেষ্টা করছে তারা।