Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিলছে না পেনশন, অস্থায়ী কর্মীদেরও বেতন না হওয়ায় আন্দোলনের প্রস্তুতি

পেনশন পাচ্ছেন না জলপাইগুড়ি পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মীরা। বন্ধ গ্র্যাচুইটির টাকা দেওয়া। অস্থায়ী কর্মীদেরও বেতন বকেয়া।

মিলছে না পেনশন, অস্থায়ী কর্মীদেরও বেতন না হওয়ায় আন্দোলনের প্রস্তুতি
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পেনশন পাচ্ছেন না জলপাইগুড়ি পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মীরা। বন্ধ গ্র্যাচুইটির টাকা দেওয়া। অস্থায়ী কর্মীদেরও বেতন বকেয়া। এনিয়ে এবার জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু। অবসরপ্রাপ্ত পৌর কর্মচারি সমিতির তরফে বকেয়া পেনশনের দাবিতে ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যানের দেখা না মেলায় কাল, সোমবার ফের তারা পুরসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা না হলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

এদিকে, মে মাস শেষ হয়ে গেলেও এখনও এপ্রিলের বেতন মেলেনি বলে অভিযোগ সাফাইকর্মীদের। পুরসভার অন্যান্য বিভাগের অস্থায়ী কর্মীদেরও বেতন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভায় হওয়া এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি প্রাক্তন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাত। দু’দিন আগেই পিডব্লুডি, ট্রেড লাইসেন্স সহ একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন সন্দীপ। 
গত নভেম্বরে চেয়ারপার্সনের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত পুরসভার কোনো বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না পাপিয়া পাল। সন্দীপ অবশ্য জানিয়েছেন, আমি বাইরে রয়েছি। সেকারণে এদিনের বৈঠকে থাকতে পারিনি। যদিও পুরসভায় এদিনের বৈঠকে তাঁদের গরহাজিরা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এসবে গুরুত্ব দিচ্ছি না। 
অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মীদের পেনশন বকেয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যানের দাবি, পেনশন খাতে প্রতিমাসে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা লাগে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ টাকা দেয় পুরসভা। রাজ্য দেয় বাকি ৪০ শতাংশ। রাজ্যের ভাগের টাকা এখনও পুরসভায় এসে পৌঁছয়নি। সেকারণে মার্চ ও এপ্রিলের পেনশন দেওয়া বাকি। মে মাস ধরলে তিনমাসের বকেয়া দাঁড়াবে। আমরা এনিয়ে রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। 
অস্থায়ী কর্মীদের বেতন না হওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যানের সাফাই, অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে আগের মাসের বেতন পরের মাসের ২০ তারিখের পর হয়ে থাকে। সেই অর্থে এপ্রিলের বেতন চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। দু-একদিনের মধ্যে আমরা তাঁদের বেতন দেওয়ার চেষ্টা করছি। 
জলপাইগুড়ি পৌর কর্মচারি সমিতির সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, প্রায় তিনশো অবসরপ্রাপ্ত কর্মী রয়েছেন। পেনশনের উপরেই তাঁদের অনেকের সংসার। মার্চ মাস থেকে পেনশন মিলছে না। অবসরগ্রহণের পর পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বা পিপিও আসতে কয়েক বছর সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে যতদিন পিপিও না আসছে, পেনশনের পুরোটা মিলছে না। 
জলপাইগুড়ি সাফাই কর্মচারি একতা মঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউতের দাবি, মাঝেমধ্যেই সাফাইকর্মীদের বেতন বকেয়া পড়ে যাচ্ছে। এনিয়ে ঘেরাও, বিক্ষোভ করার পর বকেয়ার আংশিক মিলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ