তন্ময় সাহা: আজ ষষ্ঠী। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাজো সাজো রব। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নতুন করে রং করা হয়েছে মন্দির চত্বর। মণ্ডপের কাজও প্রায় শেষ। সেখানে কৈলাস পর্বতের পোস্টার লাগানো হয়েছে। জোরকদমে চলছে ওয়েল্ডিং, বিজ্ঞাপন লাগানোর কাজ। মন্দিরের সামনে মাটি খুঁড়ছিলেন আনোয়ার আলি। তিনি বলেন, পুজোর ভিড় সামলাতে এই ব্যবস্থা। আনোয়ার একা নন, ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শ্রমিকদের বেশিরভাগই হিন্দু নন। কিন্তু তাঁদের মধ্যেও উৎসাহের খামতি নেই। সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবে বাংলাদেশের জাতীয় মন্দিরে ঐক্যের সুর। মহানগর সর্বজনীন পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, এবছর ঢাকেশ্বরী পুজোর বাজেট দেড় কোটি টাকা। আসবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অষ্টমীতে প্রসাদ বিতরণের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই ব্যস্ততা ঢাকার দুর্গাপুজার অন্য দুই প্রাণকেন্দ্র শাঁখারি বাজার ও তাঁতিবাজারে। দুর্গাপুজো এলেই পুরানো ঢাকার সরু গলিগুলি উৎসবের রঙে সেজে ওঠে। এবছরও অলিগলিতে তৈরি হয়েছে মাতৃমণ্ডপ। পুজোর প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনীয় জিনিস মেলে প্রাচীন শাঁখারি বাজারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুজোর আগে সরগরম বাজার চত্বর। পুজোর বাজার করার ফাঁকে অনেকেই ঢুঁ দিচ্ছেন মণ্ডপে। এখান থেকে এক কিলোমিটারের কম দূরত্ব তাঁতিবাজারের। তবে পুজোর সময় তা পেরোতে অনেকটাই সময় লাগে। সেখানেও বহু মানুষ ঠাকুর দেখতে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে দাবি আয়োজকদের।
পুজোর আয়োজনে পিছিয়ে নেই জেলাগুলিও। চতুর্থীর রাত থেকেই আলোর মালায় সেজেছে বরিশাল শহর। পাষানময়ী কালী মন্দির থেকে শংকর মঠ আলোর চোখধাঁধানো সাজ নিয়ে উমা বরণে প্রস্তুত পুজো কমিটিগুলি। কলকাতার মতো থিমপুজোর চল না থাকলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে পুজোর মণ্ডপে অভিনবত্ব নজর কাড়ে। সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখেরও বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি হয়েছে দুর্গার পোশাক ও অলংকার। প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার বলেন, ‘তিন বছর আগে ভারতের এক মন্দিরে গিয়ে এ ধরনের কাজ দেখেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারে প্রতিমা তৈরিতে হাত দিয়েছি।’ গত বছরও ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গাপ্রতিমা।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ঘোষবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপে এক মণ ডাল দিয়ে বানানো হচ্ছে প্রতিমা। প্রায় আড়াই মাস ধরে খুলনা থেকে আসা ছ’জন কারিগর প্রতিমা তৈরি করেছেন। নাটোর সদরের হরিশপুরের শ্রীধরপুর ঘোষপাড়ায় ৮৫ কেজি সাবুদানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া ‘শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গা মন্দিরে’ প্রতিমা বানানো হচ্ছে সোনালি ধান দিয়ে।



