Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘প্রণামীর হিসাব হবে আমার বাড়িতে’, অভয়ার বাবার দাবিতে বিতর্ক পানিহাটিজুড়ে

পানিহাটির গঙ্গা তীরবর্তী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমন্দিরের প্রণামী বাক্সে জমা পড়া টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনা করতে হবে! তৈরি হবে ট্রাস্টি বোর্ডও।

‘প্রণামীর হিসাব হবে আমার বাড়িতে’, অভয়ার বাবার দাবিতে বিতর্ক পানিহাটিজুড়ে
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটির গঙ্গা তীরবর্তী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমন্দিরের প্রণামী বাক্সে জমা পড়া টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনা করতে হবে! তৈরি হবে ট্রাস্টি বোর্ডও। অভিযোগ, দণ্ডমহোৎসবের একদিন আগে মন্দিরের সেবায়েতকে গিয়ে এই কথা বলেছেন খোদ পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথ। এই অভিযোগ নিয়ে মন্দিরের সেবায়েত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অডিও (বর্তমান যাচাই করেনি) বার্তালাপ ভাইরাল হয়েছে। শেখরবাবু ট্রাস্টি বোর্ড তৈরির কথা স্বীকার করলেও, প্রণামী বাক্স বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনা করানোর কথা স্বীকার করেননি। ঘটনাকে ঘিরে পানিহাটি জুড়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। 

Advertisement

প্রত্যেক বছরের মতো গত শনিবার পানিহাটির মহোৎসবতলা ঘাটে ঐতিহাসিক দণ্ড মহোৎসব পালিত হয়েছে। ওই জায়গায় প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীমন্দির রয়েছে। এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন। তাঁরা এই মন্দির ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেন। এছাড়া সারা বছর ভক্তরা এসে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু মন্দিরে পুজো দেন। অভিযোগ, উৎসবের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই মন্দিরে অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ হাজির হয়েছিলেন।  ভাইরাল হওয়া অডিও বার্তালাপে শোনা গিয়েছে, পানিহাটির এক বিজেপিকে নেতাকে সেবায়েত বঙ্কুবিহারীবাবু বলছেন, বিধায়কের স্বামী এসে আমায় জিজ্ঞাসা করেন, মন্দির ও ক্যাশ বাক্সের  চাবি কার কাছে আছে? আমি তখন বলি, আমরাই তো বংশ পরম্পরা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুজো করে আসছি। তারপর উনি বলেন, মন্দিরের ভিতরে ও বাইরের প্রণামী বাক্সে যে টাকা জমা পড়বে, তা আমার বাড়িতে গিয়ে জমা করে আসতে হবে। প্রণামীর ওই টাকা গণনা হবে। সেখানে আমাকেও হাজির থাকার কথা বলা হয়।
এদিন বঙ্কুবিহারীবাবু বলেন, বংশ পরম্পরায় আমরা এই মন্দির পরিচালনা করছি। আমরাই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করি। উৎসবের আগের দিন বিধায়কের  স্বামী এসে বলেন, প্রণামীর টাকা ওঁনার বাড়িতে জমা করতে হবে। আমি বলেছি, যদি প্রণামীর টাকা নিয়েই যেতে হয়, তাহলে বিধায়ককে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। তবে পরে উনি আর কিছু বলেননি। আমিও কোথাও কোনো  অভিযোগ করিনি। বিজেপি বিধায়কের স্বামী শেখরবাবু বলেন, মন দিয়ে ওই অডিও বার্তালাপ শুনলে, সত্য মিথ্যে জানতে পারবেন! প্রাচীন এই মন্দিরের পরিকাঠামো খারাপ। সাধারণ মানুষের দানের টাকা যাতে মন্দিরের উন্নয়নের কাজেই লাগে, সেজন্য ট্রাস্টি বোর্ডের কথা বলেছিলাম। যাতে স্বচ্ছতা থাকে। প্রণামী বাক্সের টাকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণনার বিষয়ে বলেন, ওসব কমিটির কেউ বলতে পারে। আমি ওসব জানি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ